বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-তে রূপান্তরিত হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত ৭ নম্বর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া পূর্বাভাষে বলা হয়েছে, প্রবল শক্তি বজায় রেখেই ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার রাতের মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
দূরত্ব ও ভৌগোলিক অবস্থান
বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ১৩.৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮২.৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। সোমবার ভোররাত ৩টার হিসাব অনুযায়ী, এটি:
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১,৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১,৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে
মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১,২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং
পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১,২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
বাতাসের গতিবেগ ও সাগরের অবস্থা
ঝড়টির কেন্দ্রস্থলে আবহাওয়া প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র কেন্দ্র থেকে ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে সর্বোচ্চ ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সতর্ক সংকেত ও সতর্কতা নির্দেশনা
ঘূর্ণিঝড়ের প্রবলতার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। একই সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



