জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে দেখা যায়নি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো শীর্ষ নেতাকে। ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে আটটায় লংমার্চের গাড়িবহর রওনা হয়। এনসিপি নেতারা জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার কেবল প্রতীকী উপস্থিতি থাকছে। উদ্বোধনে অনুপস্থিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে বহরে যোগ দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ।
ঐক্যে থাকলেও নিজস্ব স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রাখতে চায় এনসিপি। দলীয় সূত্রের মতে, এ কৌশলের অংশ হিসেবে লংমার্চের আগের দিন ঢাকার শাহবাগে তারা পৃথক গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, লংমার্চে দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন এবং এনসিপির সার্বিক সমর্থন রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা নিশ্চিত করেন যে, সমন্বয় রক্ষার জন্যই চারজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।
৪২৫ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ লংমার্চ গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে সেখানে দলটির কর্মসূচিতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার কোনো ঝুঁকি নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেই পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। লংমার্চ বহরটি গোপালগঞ্জে কোনো পৃথক পথসভা না করে সরাসরি গন্তব্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দেশের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান। হানিফ ফ্লাইওভার ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক হয়ে লংমার্চটি ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর পার হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


