মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জাপানের ঋণের সুদের হার কমানো এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে গুরুত্ব পাবে। চার দিনের এই সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হবে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান অবকাঠামোগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা
ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনা হবে কি না, সংবাদ সম্মেলনে তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, অবকাঠামো নির্মাণে জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে আসছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব সহযোগিতার বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনার সুযোগ থাকবে।
তিনি বলেন, মেট্রোরেল ছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে। এসব বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫-এর ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে। এই ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে রেখে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার শর্ত নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ, ব্যয় কমানোর সম্ভাব্য পদ্ধতি কিংবা এ বিষয়ে জাপানের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে কি না, সংবাদ সম্মেলনে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঋণের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা
জাপানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের কাছ থেকেই তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পেতে আগ্রহী। তবে ঋণের শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ঋণদাতা দেশগুলোর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, “আমরা সকল দেশের কাছ থেকেই তো কম সুদে ঋণ পেতে চাই। কিন্তু বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা, প্রতিটি দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কারণও থাকে। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
পররাষ্ট্রসচিব জানান, সাংবাদিকদের উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। তবে আলোচনার ফলাফল কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে জাপান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ কারণে ঋণের সুদের হার, অর্থায়নের শর্ত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় নিয়ে আলোচনার ফল ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রসচিব।
সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকগুলোর ক্ষেত্র হিসেবে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকীকরণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এসব খাতে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে কোন কোন বিষয়ে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা স্মারক সই হবে, তা সফরকালে দুই পক্ষের আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।
কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের লক্ষ্য
বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন সহায়তা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে জাপানের সহযোগিতা
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপান। দেশটি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ঢাকার মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিবের মতে, এই সফর জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার পরিমাণ বাড়ানো এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও সফরটি ভূমিকা রাখতে পারে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নতুন খাতে সহযোগিতা
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য জাপানের বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের শিল্প ও সেবা খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা মিলতে পারে।
ইপিএ কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২৬ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে, ২৬ অক্টোবর, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি।
এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকে অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের প্রতিনিধি, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের চেয়ারম্যান, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সভাপতি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।
এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন অর্থায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব। এই ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কারা
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জাপান যাবেন।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) মো. শাকিরুল ইসলাম খান সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফরে রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সফরের ফলাফলের দিকে নজর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে একদিকে যেমন দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ থাকবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের শর্ত নিয়ে আলোচনার সুযোগও তৈরি হবে।
মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ—সব মিলিয়ে সফরটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
তবে আলোচনার মাধ্যমে ঋণের সুদের হার বা প্রকল্পের ব্যয় কমানোর বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সফর শেষে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক, ঘোষিত উদ্যোগ এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বাংলাদেশের জন্য সফরটির বাস্তব সুফল মূল্যায়ন করা যাবে।