যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাতে তারা ইসলামাবাদে পৌঁছান বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম।
এই আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি নয়, বরং তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসছে।
কার নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদল
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
তার সঙ্গে রয়েছেন—
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর
ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতি
এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা
ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের অভ্যর্থনা
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। তাদের মধ্যে ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
পাকিস্তানের এই সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ
অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও ইতোমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তার সঙ্গে থাকছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপার।
যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের চাপ বাড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, যা এই আলোচনার পথ খুলে দেয়।
পাকিস্তান এই যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ইসলামাবাদে বৈঠকের প্রস্তুতি
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার সকালে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এই সরাসরি নয় এমন ত্রিপক্ষীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে দুই পক্ষের গভীর অবিশ্বাস ও পূর্ববর্তী ব্যর্থ আলোচনার ইতিহাস এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।