কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ–এর অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদানের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আজ, ৩০ এপ্রিল ২০২৬। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিভাগের আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত পরিচালন বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণের লক্ষ্যে এই বিশেষ মঞ্জুরি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্তে অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারছেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র প্রস্তুত, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য অনুদান চাইতে পারবে। প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনগ্রসর ও অসচ্ছল হলেও শিক্ষার মান ভালো—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষক-কর্মচারীরা জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে চিকিৎসা সহায়তা বা দৈব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের চিকিৎসা সহায়তা, দুর্ঘটনা কিংবা শিক্ষাব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা চাইতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী, দরিদ্র, মেধাবী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৫ মার্চ এবং ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। আবেদন করতে হলে MyGov Bangladesh প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন সম্পন্ন করে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে আবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক এবং নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
প্রাপ্ত আবেদনসমূহ জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আগামী ১৫ মে ২০২৬-এর মধ্যে বিভাগীয় সচিবের কাছে পাঠানো হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ ও অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। প্রতিবন্ধী আবেদনকারীদের জন্য সমাজসেবা দপ্তরের সনদ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে সরকারি চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুদান সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অনলাইনে প্রদান করা হবে, যেখানে MICR চেকের তথ্য সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হবে এবং এ জন্য আবেদনকারীর সক্রিয় অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক।
বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যারা ইতোমধ্যে অনুদান পেয়েছেন, তারা চলতি অর্থবছরে পুনরায় এ সুবিধা পাবেন না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বিভাগ নিজস্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত সহায়তা প্রদানের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।