বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তব পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র–এর প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশ্বে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।
চুল্লির ভেতরে জ্বালানি স্থাপন করা হলে সেখান থেকে উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হবে। সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যার পর পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট নাগাদ জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
এই প্রকল্প দেশের সবচেয়ে বড় একক বিদ্যুৎ উদ্যোগ। এর অধীনে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে বাস্তবায়নে কাজ করছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান Atomstroyexport। পুরো প্রকল্পটি তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায়ও অবদান রাখবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি প্রবেশের পুরো প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হচ্ছে। জ্বালানি স্থাপনের পর ধাপে ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। প্রায় এক বছর ধরে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতে পারে।
পারমাণবিক জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি ছোট ছোট দানা (প্যালেট) দিয়ে গঠিত হয়। এগুলো ধাতব নলের ভেতরে সাজিয়ে জ্বালানি রড তৈরি করা হয় এবং একাধিক রড মিলিয়ে তৈরি হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। রূপপুরের প্রতিটি বান্ডিলে রয়েছে শতাধিক জ্বালানি রড, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশবান্ধব ও টেকসই হলেও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যবহৃত জ্বালানির তেজস্ক্রিয়তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হওয়ায় সেগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক বছর পিছিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, করোনা মহামারি এবং অর্থনৈতিক জটিলতার কারণে নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আগামী এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।