ঢাকা

গুম-খুনের বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান, সরকারকে সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জুলাই গণহত্যাসহ দেশে সংঘটিত গুম–খুনের বিচার নিশ্চিত না হলে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্টের সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।

সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিচার না হলে সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হবে না: নাহিদ ইসলাম

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণহত্যা, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ অতীতের সব গুম–খুন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বিচার যদি নিশ্চিত না করা হয়, এই সরকার কোনোভাবেই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এসব ঘটনার বিচার নিয়ে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে সমালোচনা

নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর গত চার মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)–এ কোনো নতুন রায় বা তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি।

তিনি দাবি করেন, আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে অবিলম্বে তার পদত্যাগ এবং যোগ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

তার মতে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক সংস্কার ও দুই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে সংস্কার বাস্তবায়ন না করায় বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সংস্কার, বিচার এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ১১–দলীয় ঐক্য সংসদ এবং সংসদের বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান

আওয়ামী লীগকে ‘গণহত্যাকারী ও স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ববিরোধী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দলটির রাজনৈতিক ভিত্তি এখন দেশের বাইরে, বিশেষ করে দিল্লিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ হারিয়েছে এবং ৫ আগস্টের পর তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ হয়েছে।

যারা আবারও আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মামুনুল হকসহ অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিগত দিনের গুম–খুনের বিচার করা শহীদদের প্রতি জাতির অঙ্গীকার। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে নতুন বা পুরোনো কোনো রূপেই দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না।

অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ আরও অনেকে সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

সঞ্চালনায় ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক।

সমাবেশে বক্তারা বিচার, রাজনৈতিক সংস্কার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের দাবিকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স