ঢাকা

জাসদের সাবেক মেয়রের ওপর হামলা, মাথায় ১১ সেলাই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে সদ্য পদত্যাগ করা নেতা আনোয়ারুল কবির সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মাথায় ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় আনোয়ারুল কবিরের সঙ্গে থাকা আরও দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় হামলা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন আনোয়ারুল কবির। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি সেখানে এসে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে দুলাল ও নুরু নামে আরও দুজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আনোয়ারুল কবিরকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

‘হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা’

হাসপাতাল থেকে আনোয়ারুল কবির অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা ছিল।

তিনি দাবি করেন, ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হোসাইন সোহাগ, চাঁদগ্রাম এলাকার সিজারসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন।

আনোয়ারুল কবিরের ভাষ্য, হামলার আগের রাতেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে বলা হয়েছিল, জাসদের রাজনীতি করে প্রকাশ্যে চলাফেরা করা যাবে না। হামলার সময় দুর্বৃত্তরা গুলিও ছুড়েছে বলে তাঁর দাবি।

তিনি আরও বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মাথায় ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং আহত অন্য দুজনও চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জাসদ ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হামলা

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আনোয়ারুল কবির ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব হারান। এরপরও তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

তিনি ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সদস্য, যুব জোটের সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুব জোটের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে গত ২৯ জুন নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জাসদের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

অভিযোগ অস্বীকার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার

আনোয়ারুল কবিরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হোসাইন সোহাগ।

তিনি বলেন, আনোয়ারুল কবিরের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।

সোহাগের দাবি, ‘তিনি আমার মামা। তাঁর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। আমি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক পদে থেকে এমন কাজ কেন করব? তাঁর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

তিনি আরও বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আনোয়ারুল কবির এ ধরনের অভিযোগ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

গুলির আলামত পায়নি পুলিশ

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে পুলিশের দাবি, সেখানে গুলির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পেছন থেকে আনোয়ারুল কবিরের ওপর হামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের অপেক্ষায় ঘটনার প্রকৃত কারণ

হামলার ঘটনায় আহত সাবেক মেয়র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুললেও অভিযুক্ত পক্ষ তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে পুলিশও এখন পর্যন্ত গুলির আলামত না পাওয়ার কথা জানিয়েছে এবং কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি।

ফলে হামলার প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স