ঢাকা

জনদুর্ভোগ নিরসনের বদলে বিরোধীদের নিশানা করছে সরকার: শফিকুর রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার এবং মাদক উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেছেন, জনদুর্ভোগ কমানো এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত রয়েছে। একই ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা ঘটার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান লেখেন, বাংলাদেশ পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ঘটনাকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তাঁর মতে, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দ্রব্যমূল্য ও গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ

ফেসবুক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

জামায়াতের আমিরের অভিযোগ, মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান, জনদুর্ভোগ কমানো এবং অপরাধ দমনে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে সরকার বিরোধী দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যস্ত রয়েছে। তাঁর মতে, জনগণের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তরুণদের আবারও জেগে ওঠার আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনজীবনের সংকট এবং রাজনৈতিক বিরোধ—এই তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। তবে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরকারের বক্তব্য কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিভাগীয় তদন্তের দাবি জামায়াতের

এদিকে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ। বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা ঘটার অভিযোগ উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তাঁর মতে, শুধু ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়; ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা থাকলে তা-ও তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ির মালিক পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় তাঁর দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে যথাযথ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।

জামায়াতের বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়।

মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান

বিবৃতিতে মাদকের বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিভাগ এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি মনে করেন, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, অপরাধের নেপথ্যে থাকা নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার পরিচয় বা পদমর্যাদা বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির প্রশ্ন

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার এবং মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্যে মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

দলটির আমির ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারির বক্তব্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, উদ্ধার করা মাদকের ধরন ও পরিমাণ, বাড়ির মালিকের সংশ্লিষ্টতা এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া ঘটনার সব দিক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রে তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণ, প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শফিকুর রহমান সরকারের জনদুর্ভোগ মোকাবিলা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স