ঢাকা

পাঁচ বছর পর ছেলের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলেন মিয়ানমারের নেত্রী সু চি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

রয়টার্স | ব্যাংকক

পাঁচ বছর পর ছেলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন মিয়ানমারের কারাবন্দী সাবেক নেত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর ছেলে কিম অ্যারিস জানান, এদিন টেলিফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর মায়ের কণ্ঠ শুনতে পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলে জানিয়েছেন অ্যারিস।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর অং সান সু চিকে বন্দী করা হয়। সেই থেকে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাননি ছেলে কিম অ্যারিস। এত দিন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মায়ের খোঁজখবর নিতে হতো তাঁকে।

মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর এক বিবৃতিতে অ্যারিস বলেন, ‘আবার মায়ের কণ্ঠ শুনতে পারার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের একজন মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, লন্ডনে অবস্থিত মিয়ানমারের দূতাবাসের মাধ্যমে টেলিফোনে সু চির সঙ্গে কথা বলেছেন অ্যারিস। এ সময় মা ও ছেলের আলাদা দুটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বন্দী সু চি

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। অভ্যুত্থানের পর সু চিসহ দেশটির ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আটক করা হয়। এরপর থেকেই সু চি বন্দী রয়েছেন।

সু চির বিরুদ্ধে উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়। এসব মামলায় তাঁর ১৮ বছরের সাজা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সু চি।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দী থাকা সু চির শারীরিক অবস্থা, অবস্থান এবং দৈনন্দিন পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ছেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় এত দিন অ্যারিসকে অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা

সু চির সঙ্গে ছেলের এই টেলিফোনে কথা বলার ঘটনা দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ভবিষ্যতে মা ও ছেলের নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

মিয়ানমারে সামরিক শাসন, রাজনৈতিক বন্দীদের আটক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সু চির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স