অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়। এতে সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ দুই কিশোরকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিয়ামের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কোটবাড়ী এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
তদন্তে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সাইফুল ইসলাম তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে সানন্দা এলাকার নির্জন বনাঞ্চলে যায়। সেখানে অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে আরও দুই কিশোর বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অপ্রতিমের মৃত্যু হয়। পরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে পুলিশের ভাষ্য।
মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার বাসা থেকে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্য অভিযুক্তদেরও আটক করা হয়।
বর্তমানে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই অভিযুক্তকে রাখা হয়েছে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।
এদিকে, ছেলেকে হারিয়ে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। তাঁর প্রত্যাশা, মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং অভিযুক্তরা অপরাধের শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবে না। বিশেষ করে অভিযুক্তদের বয়সের বিষয়টি যেন বিচারপ্রক্রিয়ায় দায় এড়ানোর সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।