আল–জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন দেশটির কট্টরপন্থী রাজনীতিকেরা। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার বিরোধিতা করে কট্টরপন্থীরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করারও আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরানের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘ফ্রন্ট অব ইসলামিক রেভল্যুশনারি স্ট্যাবিলিটি’, যা ‘পায়দারি ফ্রন্ট’ নামেও পরিচিত, দেশটির পার্লামেন্ট ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। গোষ্ঠীটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপসহ সামরিক উদ্যোগগুলো নিতে হবে ‘যত দ্রুত সম্ভব’।
এনপিটি থেকে সরে যাওয়ার এই আহ্বানকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও কঠোর করার এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো এবং বাস্তবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিরোধিতা করে পায়দারি ফ্রন্টের এই অবস্থান ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে চলমান মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী অংশ অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে সংঘাতের অবসান এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে। অন্যদিকে কট্টরপন্থীদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে আলোচনায় বসলে ইরানের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে না।
যুদ্ধের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই
গত আট মাসে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। তেহরানের রাজনীতিতে একদিকে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো নেতারা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে পায়দারি ফ্রন্টের মতো কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো আলোচনার বিরোধিতা করছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ইরান এবং আরব দেশগুলোর বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ বাড়ছে। পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ মধ্যপন্থীরা মনে করেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর করবে। তাই দ্রুত যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি করা জরুরি।
কিন্তু কট্টরপন্থীদের অবস্থান ভিন্ন। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল শক্তির ভাষা বোঝে। ইরানের দাবি মেনে ওয়াশিংটন নতি স্বীকার না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। এই মতপার্থক্য এখন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই; পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ এবং পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার দাবির মধ্য দিয়েও তা প্রকাশ পাচ্ছে।
রাজপথে কট্টরপন্থীদের সমাবেশ
ইরানের বড় শহরগুলোর বিভিন্ন চত্বরে রাতের বেলায় কট্টরপন্থীদের সমাবেশ হচ্ছে। টানা প্রায় ২০০ দিন ধরে চলা এসব জমায়েতের শুরুতে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের প্রতি সমর্থন জানানো এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রতিবাদ করতেন। সময়ের সঙ্গে এসব সমাবেশ আরও সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।
এখন সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা হচ্ছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক কর্মীদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়—আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চাই’ এবং ‘শত্রুর সঙ্গে আলোচনা মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’।
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে তেহরানে ফেরার সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেন কট্টরপন্থীরা। ওই অধিবেশনে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি কূটনীতির সম্ভাব্য সুফলের কথাও তুলে ধরেছিলেন। প্রেসিডেন্টের কাছে আলোচনাবিরোধী অবস্থান পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে ওই বিক্ষোভকে দেখা হয়।
পায়দারি ফ্রন্টের ঘনিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য আমির হোসেন সাবেতি কট্টরপন্থীদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যাঁরা ভেবেছিলেন আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, তাঁরা বিশ্ব কীভাবে চলে, তা বোঝেননি। তাঁরা নিজেদেরই ভুল বুঝিয়েছেন। বিশ্ব শুধু একটি ভাষাই বোঝে। তা হলো শক্তির ভাষা।’
কট্টরপন্থীদের প্রভাব শুধু রাজপথের সমাবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। তেহরানের নগর প্রশাসন ও পার্লামেন্টে তাঁদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ধর্মীয় বক্তা, শোকগাথা পাঠকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন অংশেও তাঁদের প্রভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাঁদের বিরোধিতা সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিকে অভিশংসনের উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিরোধিতার অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অভিশংসনের প্রস্তাব পার্লামেন্টে জমা দিয়েছেন পায়দারি ফ্রন্টের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকেরা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আরাগচির নিউইয়র্ক সফরের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কট্টরপন্থী পার্লামেন্ট সদস্য আমির হোসেন সাবেতি বলেছেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা উচিত নয়।
তিনি দাবি করেন, ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসেনি। বরং দেশটি আবার অতর্কিত হামলা চালানোর উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
সাবেতি বলেন, যারা মনে করেছিলেন আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ ঠেকানো যাবে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া সম্ভব হবে, তাঁরা পরিস্থিতি বুঝতে ভুল করেছেন। তাঁর মতে, শক্তি প্রদর্শন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে না।
আরাগচিকে অভিশংসনের প্রস্তাবের বিষয়ে পার্লামেন্টে প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুনানির দিন নির্ধারণে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে প্রস্তাবটির পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে বিদেশি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়াকে ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার লক্ষ্যে একটি আইন নিয়েও ইরানের পার্লামেন্টে আলোচনা চলছে। আইনটি পাস হলে বিদেশি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কট্টরপন্থীদের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশটির গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিসর নিয়েও নতুন বিতর্ক দেখা দিতে পারে।
পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠদের যুক্তি: কূটনীতির পথ বন্ধ করা যাবে না
কট্টরপন্থীদের চাপের মধ্যেও ইরানের সরকারপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের একটি অংশ সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক দাভুদ হেশমতি মনে করেন, সাম্প্রতিক কিছু লক্ষণ থেকে ধারণা করা যায়, ইরানের সরকার উৎখাতের বৃহত্তর লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সরে এসে তুলনামূলক সীমিত কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তাঁর মতে, এতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
হেশমতি বলেন, কট্টরপন্থীরা মনে করেন, কয়েক দফা লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই সংঘাত থেকে সরে যাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাঁদের এই ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিরোধিতাকারীদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। হেশমতির মতে, যাঁরা মনে করেন প্রণালিটি খুলে দেওয়া উচিত নয়, তাঁদের অবস্থান কার্যত যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পক্ষে যায়। অথচ এই সংঘাত থেকে তাঁরা কী অর্জন করতে চান, তা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেন না।
আল–জাজিরাকে হেশমতি বলেন, যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের একাধিক পথ রয়েছে। সামরিক পদক্ষেপ তার একটি হলেও যুদ্ধ এড়াতে আলোচনাসহ অন্যান্য বিকল্পও যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধান ও চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতা প্রয়োজন, যেখানে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান নিশ্চিত হবে। আলোচনার পক্ষে থাকা ইরানিদের যুক্তি হলো, শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সব সময় যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না। তবে অতীতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, সেটিও অস্বীকার করা যায় না।
কট্টরপন্থীরা প্রভাবশালী, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁদের হাতে নয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভির মতে, ইরানের কট্টরপন্থীরা দেশটির রাজনীতিতে কোনো প্রান্তিক শক্তি নন। তাঁরা সুসংগঠিত এবং ক্ষমতাকাঠামোর গভীরে তাঁদের অবস্থান রয়েছে। সমর্থকদের সংগঠিত করা, রাজনৈতিক বিতর্কের গতিপথ প্রভাবিত করা এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁদের যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে।
মোর্তাজাভি বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো, আলোচনার প্রস্তাবদাতাদের অভিশংসনের হুমকি দেওয়া এবং সমঝোতার পথ কঠিন করে তোলার ক্ষমতা কট্টরপন্থীদের রয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেই যে তাঁরা রাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করেন, এমন নয়।
তাঁর ব্যাখ্যায়, যুদ্ধ, শান্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি এবং সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মোর্তাজাভির মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন থাকলে কট্টরপন্থীরা কোনো চুক্তি পুরোপুরি ঠেকাতে পারবেন না। তাঁরা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করতে পারেন, রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের একার হাতে নেই।
আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, পুরো যুদ্ধের সময় তেহরান কূটনীতির দরজা খোলা রেখেছে। ইরানের নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কট্টরপন্থীরা এই উদ্যোগ থামাতে পারেননি।
মোর্তাজাভি অতীতের পারমাণবিক চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতার উদ্যোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কট্টরপন্থীদের বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো শেষ পর্যন্ত তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পর্যায়েই নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত, বিরোধিতাও চলবে
ইরানে কট্টরপন্থীদের রাজপথের সমাবেশ ও টেলিভিশনভিত্তিক প্রচার অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির অভিশংসন প্রস্তাবের প্রক্রিয়াও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর পাশাপাশি যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে।
এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নে বিরোধ থাকলেও কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। কট্টরপন্থীরা সমঝোতার বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করছেন, আর পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠরা সংঘাতের অবসানে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।
শেষ পর্যন্ত ইরানের অবস্থান কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, সামরিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার শর্তের ওপর। কট্টরপন্থীদের রাজনৈতিক চাপ আলোচনার পথ কঠিন করতে পারে, কিন্তু তাঁদের বিরোধিতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে—এমনটি নিশ্চিত নয়।