ঢাকা

পদুচেরি উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত, পূর্ব ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

নির্ধারিত সময়ের আগেই উপকূল অতিক্রম শুরু, অন্ধ্রপ্রদেশে ২ হাজার ১৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত; ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ২ হাজার ৩৬০ অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে সরানো হয়েছে

ভারতের পদুচেরির ইয়ানাম উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়টির গতিবেগ বেড়ে যাওয়ায় পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই বুধবার ভোররাত থেকে উপকূল অতিক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর প্রভাবে ভারতের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ঘূর্ণিঝড়টির দ্রুত অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আবহাওয়া বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঝড়টির স্থলভাগে আঘাত হানার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর বাইরের মেঘমালা ইতিমধ্যে উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। ঝড়ের মূল অংশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার তীব্রতা বাড়ছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় ঝড়টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। উপকূল অতিক্রমের পুরো প্রক্রিয়া কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে পারে। এ সময় ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’কে ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ বা ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝড়টির বাইরের মেঘমালা ইতিমধ্যে স্থলভাগের ভেতরে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে এর মূল কেন্দ্র উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঝড়টির মূল অংশ অতিক্রম করার পূর্বাভাস রয়েছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

ঝড়ের গতি বেড়ে যাওয়ায় আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কবার্তার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকা, নদীসংলগ্ন বসতি এবং ঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে এমন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশে ২ হাজার ১৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ২ হাজার ১৯৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগেভাগে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্যও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের প্রভাবে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ২ হাজার ৩৬০ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জরুরি প্রসবসেবা ও অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাঁদের দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সময় বিদ্যুৎ, যোগাযোগব্যবস্থা ও যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

পশ্চিমবঙ্গেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব শুধু অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানেও ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘা সমুদ্রসৈকতে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সৈকতজুড়ে ঝোড়ো হাওয়া বইছে এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের তীব্রতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থান, সৈকতে চলাচল এবং ঝড়ের সময় বাইরে থাকার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব বাড়লে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠা, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে। তাই পরিস্থিতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও উদ্ধার প্রস্তুতিতে গুরুত্ব

ঘূর্ণিঝড়টির দ্রুত অগ্রসর হওয়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ দুর্যোগের সময় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সড়ক যোগাযোগ বা বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আগাম স্থানান্তরের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের দিঘাসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সমুদ্র উত্তাল থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকা জরুরি। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং আবহাওয়া পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করাই এ সময়ে নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ভারতের পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বড় পরিসরে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝড়টির উপকূল অতিক্রমের সময় এবং পরবর্তী সময়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Desk

কমেন্ট বক্স