ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অখণ্ডতা রক্ষা এবং বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা সব ধরনের সড়ক ও রেলপথ অবরোধ ৭২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের প্রতিশ্রুতিতে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসক জানান, সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করা হয়। উদ্ভূত সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে সাথে নিয়ে খুব শিগগিরই জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক আয়োজন করা হবে, যেখানে স্থানীয় এমপি স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে রোববার সকাল ৭টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা এলাকায় শত শত ক্ষুব্ধ অধিবাসী জড়ো হয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করেন। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের ওপর অবস্থান নিলে দুটি প্রধান লাইনেই রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই সাথে আন্দোলনকারীরা সুলতানপুর-আগরতলা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে সীমান্তমুখী যান চলাচল থমকে যায়।
হঠাৎ ডাকা এ অবরোধের ফলে রেলপথের উভয় দিকেই দীর্ঘ ট্রেন জট তৈরি হয়। ঢাকাগামী ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি কোড্ডা এলাকায় দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে থাকে। এ ছাড়া সকালে ছেড়ে আসা সিলেটগামী ‘পারাবত এক্সপ্রেস’, চট্টগ্রামগামী ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ এবং কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’-এর সময়সূচি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে হাজারো দূরপাল্লার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় সূত্র মতে, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার আওতাধীন বাসুদেব ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম আলাদা করে ‘বরিশল’ নামে একটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয় এবং সেটিকে পাশ্ববর্তী আখাউড়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সদর উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আখাউড়ায় যুক্ত করার এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই প্রত্যাখান করে আসছিলেন বাসুদেব ইউনিয়নের মূল অধিবাসীরা।
এর আগেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একাধিকবার স্মারকপত্র প্রদান, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ফলে সদরের ভৌগোলিক সীমানা অখণ্ড রাখা, এলাকা বিভক্ত করার চক্রান্ত নস্যাৎ করা এবং বাসুদেব ইউনিয়নকে পূর্বের অবস্থায় বহাল রাখার একদফা দাবি আদায়ে বাধ্য হয়েই স্থানীয়রা সড়ক ও রেলপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট অবরোধের পথ বেছে নেন।



