বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যার নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এবং তার কাছে সেই সময়ের আরও কোনো ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল কি না—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা শেয়ার করার ক্ষেত্রে নিহত তাহসিফের ভূমিকা ছিল। ওই ভিডিওটি সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে এবং দেশত্যাগের দৃশ্যটি ফুটিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। রাষ্ট্রপক্ষের ধারণা, এই ভিডিও বা সেদিনের অন্য কোনো গোপন ফুটেজ তাহসিফের কাছে থাকার কারণে কোনো প্রভাবশালী মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল কি না এবং এর জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের প্রধান ফোকাস।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে এই মামলার এক নারী আসামির পুনরায় রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, তদন্ত কর্মকর্তা কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে সামনে রেখে এগোচ্ছেন না। তাহসিফের ধারণ বা শেয়ার করা ভিডিও, সেদিনের অন্যান্য ফুটেজ এবং এগুলোর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, তদন্তে ইতোমধ্যে দু'জনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তারা জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন সময়ে একেক রকম বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও মূল হোতাদের বের করতে তাদের আরও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেলকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাহসিফ নিজেই ওই নারীকে তার বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। আসামিপক্ষের যুক্তি ছিল, তাদের মধ্যে যদি কোনো বিরোধ বা বৈরিতা থাকত, তবে তাহসিফ তাকে নিজে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল না। এ সময় আসামির নারী ও ছাত্রী পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে আদালতকে নমনীয় হওয়ার আবেদন জানানো হয়।
উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি এবং মামলার সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিচারক ওই নারী আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত সংস্থার দাবি, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয় মিলিয়ে অচিরেই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।



