হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রাকিবুল হাসানকে রিমান্ডে না দিয়ে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত
মামলার শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন, অন্যান্য অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের জন্য রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তবে আদালত তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রিমান্ড মঞ্জুর না করে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার অভিযোগ
মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, একটি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ জুলাই রাজধানীর কালশী এলাকায় তাঁকে কৌশলে একটি বাসার কক্ষে ডেকে নিয়ে কয়েকজন মিলে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যারও চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তদন্তে যা বলা হয়েছে
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার বিভিন্ন দিক যাচাই, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহের স্বার্থে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আরেক আসামি আমিনুর রহমানকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিতর্কের পর দলীয় ব্যবস্থা
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
ঘটনার পর তদন্ত শেষে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নৈতিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাছেও দলটি আবেদন জানিয়েছে।
বর্তমানে হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কারাফটকে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।