ঢাকা

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে রাজনৈতিক সমীকরণের অভিযোগের ইঙ্গিত, প্রশ্ন খেলাফত মজলিসের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। একই সঙ্গে দলটি বলেছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মাধ্যমে তাঁর দায় শেষ হয়ে যায় না; তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর নৈতিক বৈধতা হারিয়েছিলেন’

বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতনের পর থেকেই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা হারিয়েছিলেন।

তাঁদের দাবি, সে সময় থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গণ-আন্দোলনের অংশীজন এবং খেলাফত মজলিস ধারাবাহিকভাবে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে বিএনপি শুরুতে সেই দাবির পক্ষে অবস্থান না নিয়ে তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল বলেও অভিযোগ করে দলটি।

খেলাফত মজলিসের ভাষ্য, পরে বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের পরই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগে বাধ্য হন। এ কারণে তাঁর পদত্যাগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা সমীকরণ কাজ করেছে কি না, সে প্রশ্ন এখন জনমনে তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন অতীতে যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

দলটির মতে, রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির বক্তব্যে অসামঞ্জস্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, সংবিধান লঙ্ঘন এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সহযোগিতার অভিযোগের বিষয়েও নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচারিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি জানায় দলটি।

তাঁদের মতে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে শুধু পদত্যাগের মাধ্যমে বিষয়টির সমাপ্তি টানা হলে জনগণের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

সরকারের প্রতি আহ্বান

বিবৃতিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খেলাফত মজলিসের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, দেশের মানুষ কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা আপস নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে।

তাঁরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

খেলাফত মজলিসের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হলে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ শক্তিশালী হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স