দেশে বিনিয়োগনির্ভর ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে অর্থ পাচার বন্ধ করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে সরকার। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিদেশে অর্থ পাচার রোধ করা গেলে সেই অর্থ দেশের ভেতরেই বিনিয়োগে ব্যবহৃত হবে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি আনবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ে ফরওয়ার্ড ফর এমার্জিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রবণতা বন্ধ করা গেলে দেশীয় বিনিয়োগের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং পুঁজি অলস পড়ে থাকবে না।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, অনেক দেশ একই প্রযুক্তি ব্যবহার করেও বাংলাদেশের তুলনায় বেশি উৎপাদন করতে পারছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজেদের ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা উন্নত করতে হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী এক দশকের মধ্যে মোট জ্বালানির অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে জমি, ঋণ ও কর-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যবসা সহজ করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, দ্রুত লাইসেন্স প্রদান এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সংযোগ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক, চামড়া ও লজিস্টিকসের বাইরে তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বেশ কয়েকটি নতুন শিল্পখাতকে বিনিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের জন্য উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ওপর জোর দিতে হবে।
দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ নীতিগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিদ্যমান ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন জরুরি।
বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও ব্যবসা পরিচালনায় নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, লালফিতার দৌরাত্ম্য ও নীতিগত বাধা কমানো গেলে নতুন উদ্যোক্তারা আরও বেশি উৎসাহিত হবেন এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে।