ঢাকা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কড়াকড়ি, সভাপতি হতে লাগবে নির্ধারিত যোগ্যতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে উপজেলা, জেলা ও শিক্ষা বোর্ড—এই তিন স্তরে স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এতে সভাপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং অযোগ্য বা রাজনৈতিক প্রভাবিত নিয়োগের সুযোগ কমবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)-এর সদস্যদের সঙ্গে ইফতার-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

সভাপতি নিয়োগে তিন স্তরের যাচাই

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রার্থীদের যাচাইয়ে তিন স্তরের স্ক্রিনিং রাখা হবে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী—

  • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রাথমিক যাচাই করবেন,

  • জেলা প্রশাসক (ডিসি) দ্বিতীয় স্তরের মূল্যায়ন করবেন,

  • সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

তার ভাষায়, “এই প্রক্রিয়া চালু হলে স্থানীয়ভাবে অযোগ্য বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ কমে আসবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক মান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এসএসসি পরীক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’

আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নকল ঠেকাতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান মন্ত্রী। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকির আশ্বাস দেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে আমরা সফল হয়েছি, এবারও সেই ধারা বজায় থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

তিনি আরও জানান, সব শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাসহ পরীক্ষাসংশ্লিষ্টদের নিয়ে শিগগিরই সমন্বয় সভা করা হবে এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেও মাঠপর্যায়ে গিয়ে তদারকি করবেন।

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার চিন্তা

দেশজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য একই মানদণ্ড থাকা উচিত। বিশ্বে বড় বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা যদি অভিন্ন প্রশ্নে হতে পারে, তাহলে আমাদের দেশেও তা সম্ভব। আগামী বছর থেকে এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।”

নীতিগতভাবে এ পরিবর্তন এলে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হবে বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১৮ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিতর্ক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে আলোচনায়। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫–১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত শিক্ষকদের সুযোগ করে দিতেই অভিজ্ঞতার শর্ত পুনর্নির্ধারণকে যৌক্তিকভাবে দেখা হচ্ছে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য বজায় রেখে নীতিমালা পরিমার্জনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০২৭ সালের শিক্ষাক্রম সংস্কার ‘প্রধান মিশন’

২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনকে নিজের অন্যতম প্রধান মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, পাঠ্যবইয়ের মানোন্নয়ন ও বাস্তবমুখী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মন্ত্রণালয়কে নিজের ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে এমন ভিত্তি তৈরি করতে চাই, যা ১৮০ বছরের সমতুল্য প্রভাব ফেলবে। আমি ধীরস্থিরভাবে কাজ করতে চাই, যাতে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না হয়।”

কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর বার্তা

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গতানুগতিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ শেষ করতে হবে। এখানে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে এসেছেন।”

মতবিনিময় সভায় ইরাব সভাপতি ফারুক হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান সালমান, সহসভাপতি শাহেদ মতিউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আসিফ হাসান কাজল, অর্থ সম্পাদক নাজিউর রহমান সোহেলসহ সংগঠনের সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স