দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় তারকা বিজয় এখন শুধু চলচ্চিত্রের নায়ক নন, রাজনীতির ময়দানেও প্রতিষ্ঠিত এক নাম। তাই তাঁর জন্মদিনকে ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাসও থাকে অন্য মাত্রার। সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে তাঁর বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মার্সাল’ আবারও বড় পর্দায় ফিরছে।
আগামী ২২ জুন বিজয়ের জন্মদিন উপলক্ষে চেন্নাই ও চেঙ্গালপাট্টুর কয়েকটি নির্বাচিত প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর প্রিয় তারকাকে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত তাঁর অনুরাগীরা।
তিন রূপে বিজয়ের চমক
২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মার্সাল’ পরিচালনা করেছিলেন অ্যাটলি। ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বিজয়ের ত্রিমাত্রিক চরিত্রায়ন। তিনি একই ছবিতে বাবা এবং তাঁর দুই ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন।
চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্র মারান একজন মানবিক চিকিৎসক, যিনি অল্প খরচে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর জীবনের আরেকটি দিকও রয়েছে। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক রহস্যময় ব্যক্তিত্ব, যিনি স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। গল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক গোপন অধ্যায় উন্মোচিত হয়ে দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে।
শক্তিশালী অভিনয়ে সমৃদ্ধ
ছবিতে বিজয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন সামান্থা রুথ প্রভু, কাজল আগরওয়াল, নিত্যা মেনন, এস জে সূর্য, সত্যরাজ, ভাদিভেলু এবং আরও অনেক পরিচিত মুখ।
বিশেষ করে প্রতিপক্ষ চরিত্রে এস জে সূর্যের অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। একই সঙ্গে তিন নায়িকার উপস্থিতি ছবির বিনোদনমূল্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
অ্যাটলি ও বিজয়ের সফল রসায়ন
‘থেরি’-র সাফল্যের পর অ্যাটলি ও বিজয় দ্বিতীয়বারের মতো একসঙ্গে কাজ করেন ‘মার্সাল’-এ। পরে তাঁদের সহযোগিতায় নির্মিত হয় ‘বিগিল’। এই নির্মাতা-অভিনেতা জুটির কাজকে তামিল বাণিজ্যিক সিনেমার অন্যতম সফল অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়।
অনেক সমালোচকের মতে, বিজয়ের তারকাখ্যাতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে অ্যাটলির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, আর ‘মার্সাল’ সেই সাফল্যের উজ্জ্বল উদাহরণ।
সংগীতে রাহমানের ছোঁয়া
চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিচালনা করেন কিংবদন্তি সুরকার এ আর রাহমান। ছবির একাধিক গান মুক্তির পর শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। গানগুলোর সুর ও উপস্থাপনা ছবির আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছিল।
আলোচনা ও সমালোচনা
মুক্তির পর ছবিটি যেমন বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছিল, তেমনি কিছু বিতর্কও তৈরি করেছিল। স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও করনীতি নিয়ে কিছু সংলাপ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। পাশাপাশি জাদুশিল্পীদের একটি সংগঠনও ছবির নির্দিষ্ট কিছু দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তোলে।
তবে এসব বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ছবির জনপ্রিয়তায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি; বরং দর্শকদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করেছিল।
বক্স অফিসে রেকর্ড সাফল্য
দীপাবলি উৎসবকে সামনে রেখে মুক্তি পাওয়া ‘মার্সাল’ বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় করে তামিল সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল ছবির মর্যাদা অর্জন করে। এছাড়া এটি প্রথম তামিল চলচ্চিত্র হিসেবে চীনের বাজারেও মুক্তি পেয়েছিল।
কেন আজও দর্শকের প্রিয়?
বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ‘মার্সাল’ দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। এর কারণ ছবিটির শক্তিশালী গল্প, সামাজিক বার্তা, পারিবারিক আবেগ, অ্যাকশন এবং বিনোদনের সুষম সমন্বয়।
বর্তমানে বিজয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং রাজ্যের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ফলে তাঁর অভিনয়জীবনের স্মরণীয় কাজগুলোর প্রতি ভক্তদের আবেগ আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।
নতুন সিনেমার অপেক্ষা
বিজয়ের ঘোষিত শেষ চলচ্চিত্র ‘জনা নায়াগান’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকলেও এর মুক্তির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তাই অনেকের কাছে ‘মার্সাল’-এর পুনর্মুক্তি এক ধরনের বিশেষ উপহার।
রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে ভবিষ্যতে তিনি নিয়মিত অভিনয়ে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও রয়েছে জল্পনা। ফলে বড় পর্দায় বিজয়কে দেখার প্রতিটি সুযোগই এখন তাঁর ভক্তদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।