তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কাতারএনার্জি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত মার্চে স্থাপনাগুলোতে হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া উৎপাদন কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুনরায় চালুর পথে রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাতারের রাস লাফান ও মেসাইদ এলাকায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আংশিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে পুনরায় শুরু হয়েছে।
আংশিকভাবে উৎপাদন পুনরায় শুরু
সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, কাতারএনার্জির আওতাধীন Qatargas North 1 LNG Project–এর তিনটি উৎপাদন ইউনিটের (ট্রেন) মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এটি কাতারের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি প্রকল্পগুলোর একটি।
রাস লাফান শিল্পনগরে অবস্থিত এই প্রকল্পের মোট তিনটি তরলীকরণ ইউনিট রয়েছে, যেগুলো যৌথভাবে বছরে প্রায় ১ কোটি টন এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা রাখে।
নিরাপত্তা ও পরিবহন পরিস্থিতির প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি উৎপাদন পুনরায় পূর্ণমাত্রায় চালুর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাহাজ পরিবহন–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে ইরানি নৌবাহিনীর বাধার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে এই সমুদ্রপথে চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন পুনরায় চালুর আগে স্থাপনাগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত যাচাই–বাছাই চলছে।
তবে পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় পরিসরে উৎপাদন পুনরুদ্ধারের জন্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়া জরুরি।
হামলার প্রভাব ও রপ্তানি সক্ষমতা
চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে রাস লাফান স্থাপনাগুলোতে হামলার পর এলএনজি উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়।
একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্ল্যান্টের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাতারের বার্ষিক রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে স্থাপনাটির অন্যান্য ইউনিট পুনরায় চালু করা গেলে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। পুরো প্রকল্পের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এলএনজি।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, গত সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা থেকে কাতারের দুটি এলএনজি ট্যাংকারকে ফিরে যেতে হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপদ অতিক্রমের অনুমতি না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটের অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। কাতারের উৎপাদন পুনরুদ্ধার তাই শুধু জাতীয় অর্থনীতির জন্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।