ঢাকা

“সংকট না থাকলে লোডশেডিং কেন”—সরকারকে প্রশ্ন শফিকুর রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাজধানীতে আয়োজিত দলীয় সম্মেলনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—সরকার যখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট না থাকার দাবি করছে, তখন দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং কেন চলছে।

‘সংকট নেই, তবুও লোডশেডিং কেন?’

শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলটির জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার বলছে জ্বালানি সংকট নেই, বিদ্যুতের সংকট নেই। অথচ বাস্তবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে—ঘোষিত ও অঘোষিত মিলিয়ে।”

তার এই মন্তব্য দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে অসামঞ্জস্যের অভিযোগকে সামনে নিয়ে আসে।

দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষোভ

সম্মেলনে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির হার দিন দিন বাড়ছে, যার চাপ সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত চাঁদার কারণে পরিবহন খরচ বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষায়, “দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে মানুষ পিষ্ট। খেটে খাওয়া মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ‘দলীয়করণ’ অভিযোগ

কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড বিতরণে দলীয় প্রভাবের অভিযোগও তোলেন জামায়াতের আমির। তিনি দাবি করেন, এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।

একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবার জীবনে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে—যদিও এ ধরনের ঘটনার পূর্ণ সত্যতা যাচাই প্রয়োজন বলেও ইঙ্গিত দেন।

নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন

সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক “ইঞ্জিনিয়ারিং” হয়েছে। তার দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, ভবিষ্যতে ইতিহাস এর ‘পোস্টমর্টেম’ করবে।

গণভোট ও রাজনৈতিক বৈধতা প্রসঙ্গ

সরকারের গণভোট সংক্রান্ত অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে গণভোট বৈধ হিসেবে স্বীকৃত হলেও এখন সেটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে—যা দ্বিমুখী অবস্থান নির্দেশ করে।

ব্যাংক খাত ও অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এতে আর্থিক খাতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনরায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার মতে, এটি দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বার্তা বহন করে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বিচারক নিয়োগে দলীয় প্রভাব থাকলে নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি অতীতে বিতর্কিত হিসেবে আলোচিত কয়েকজন বিচারপতির উদাহরণ টেনে দলীয়করণের সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক আহ্বান

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের ফলাফল মেনে নেওয়া এবং রাজনৈতিক সংস্কারসংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা উচিত।

সম্মেলনে উপস্থিতি

সম্মেলনে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—দলের সেক্রেটারি জেনারেল, নায়েবে আমির ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সামগ্রিক প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলের এ ধরনের সমালোচনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করছে। একই সঙ্গে এসব বক্তব্য সরকারের ওপর জবাবদিহিতার চাপ বাড়াতে পারে।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বাস্তবতা ও পরিসংখ্যানগত সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স