রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাসগুলো এখন আর এক পাম্প থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে একাধিক স্টেশনে ঘুরতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়, যার প্রভাব পড়ছে শিডিউলে।
১. রেশনিং ও একাধিক পাম্পের চক্কর
আগে একটি ফিলিং স্টেশন থেকেই বাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমান সংকটে একটি বাসকে ৫ থেকে ৬টি পাম্প ঘুরতে হচ্ছে।
সীমিত সরবরাহ: পরিচিত পাম্পগুলোও ৪০ থেকে ৫০ লিটারের বেশি ডিজেল দিতে চাইছে না। ফলে তেল সংগ্রহ করতেই কয়েক ঘণ্টা সময় পার হয়ে যাচ্ছে।
ট্রিপ বাতিল: ছোট পরিবহন কোম্পানিগুলো জ্বালানি সংকটে টিকতে না পেরে প্রতিদিনের ট্রিপ বা যাত্রার সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।
২. যাত্রী ভোগান্তি ও শিডিউল বিপর্যয়
জ্বালানি জোগাড় করতে দেরি হওয়ায় প্রতিটি বাস নির্ধারিত সময়ের ১ থেকে ২ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে।
অসহিষ্ণুতা: কাউন্টার থেকে অনেক সময় ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’র কথা বলা হলেও যাত্রীরা পরে জানতে পারছেন আসল কারণ জ্বালানি সংকট। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে চরম অসন্তোষ।
মাঝপথে বিপত্তি: অনেক সময় পর্যাপ্ত তেল না নিয়েই বাস যাত্রা শুরু করায় মাঝপথে জ্বালানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। এতে মাঝরাস্তায় পাম্পের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩. জীবন-জীবিকার সংকট: চালক ও শ্রমিকদের আর্তনাদ
আজিমপুর থেকে গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ‘ভিআইপি’ বাসের চালক মামুনের মতো হাজারো শ্রমিকের আয়ের পথ এখন বন্ধের মুখে।
আয় বন্ধ: বাস না চললে দিনমজুর চালক ও হেল্পারদের বেতন জোটে না। অনেক চালক পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে বাস গ্যারেজে বসিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
অনিশ্চয়তা: পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়া পরিবহন শ্রমিকরা জানেন না এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে।
৪. কর্মঘণ্টার অপচয় ও স্থবির নগরজীবন
রাজধানীর প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে এখন যানবাহনগুলোর দীর্ঘ সারি। অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল—সবই এখন লাইনে বন্দি।
ভোর থেকে অপেক্ষা: অনেকে আগের রাত বা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাবেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন।
অর্থনৈতিক প্রভাব: প্রতিদিন শত শত কর্মঘণ্টা পাম্পের লাইনে নষ্ট হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদনশীল কাজ।
সারসংক্ষেপ: মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার এই সংকট যদি দ্রুত নিরসন করা না হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক