স্কুল শাখাতেও অনলাইন–অফলাইন সমন্বয়ে পাঠদান শুরু
রাজধানীর অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ–এ সশরীর ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে স্কুল শাখাতেও। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে সপ্তাহে তিন দিন অফলাইন এবং তিন দিন অনলাইন ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
নির্ধারিত সূচি: তিন দিন অনলাইন, তিন দিন সশরীর
প্রতিষ্ঠানটির জারি করা নোটিশে জানানো হয়েছে—
শনিবার, সোমবার ও বুধবার: সশরীর (অফলাইন) ক্লাস
রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার: অনলাইন ক্লাস
শুক্রবার: সাপ্তাহিক ছুটি
অনলাইন ক্লাসের রুটিন ও সংযুক্তির লিংক সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ক্লাস গ্রুপে জানিয়ে দেওয়া হবে।
আগে কলেজ শাখায়, এখন স্কুলেও
এর আগে একই পদ্ধতিতে কলেজ শাখায় গত ১২ এপ্রিল থেকে অনলাইন ও অফলাইন সমন্বিত ক্লাস কার্যক্রম চালু করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
ছুটি শেষে এখন স্কুল শাখাতেও এই কার্যক্রম চালু হচ্ছে, যা একটি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারের নির্দেশনা ও পরীক্ষামূলক উদ্যোগ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়–এর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা মহানগরের কিছু বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে এই ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। একই তালিকায় রয়েছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ–এর মতো বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।
এই পদ্ধতির আওতায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অনলাইন অংশগ্রহণ—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট মোকাবিলা
রাজধানীর তীব্র যানজট হ্রাস
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার প্রস্তুতি
বিশেষ করে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে এই মডেল কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম এর আগে জানিয়েছিলেন, কলেজ শাখায় এই পদ্ধতির ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই স্কুল শাখায়ও একই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন ধারা
শিক্ষাবিদদের মতে, অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষার সমন্বিত এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। এতে যেমন শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হবে, তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকবে।
তবে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের অংশগ্রহণের ওপর—এমন মতও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।