দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে। তিনি বর্তমানে অধিদপ্তরটির পরিচালক (মাধ্যমিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১ এর বিধি ৬৬ অনুযায়ী খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে।
একাধিক দায়িত্ব থেকে নতুন দায়িত্বে
এর আগে খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তবে মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি একান্ত সচিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
দীর্ঘ ছয় মাস ধরে শূন্য পদ
মাউশিতে গত প্রায় ছয় মাস ধরে কোনো নিয়মিত মহাপরিচালক নেই। পদটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা ও ঘন ঘন পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।
এরও আগে একই বছরে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক এহতেসাম উল হককে মাত্র ২০ দিনের মাথায় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ধারাবাহিক পরিবর্তন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে মহাপরিচালকের পদটি কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
অন্তর্বর্তী দায়িত্বে প্রশাসন পরিচালনা
এতদিন অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) বি এম আবদুল হান্নান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে গত ৯ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে সরিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে সংযুক্ত করা হয়। ফলে নতুন করে নেতৃত্ব সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিক নেতৃত্বের অভাবের কারণে মাউশির প্রশাসনিক কার্যক্রম, নীতিনির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গতি কমে গেছে।
মাউশির গুরুত্ব ও প্রভাব
মাউশি দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রধান সংস্থা। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও এই অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত হয়।
সারা দেশে নয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক নিয়ে এটি শিক্ষা খাতের সবচেয়ে বড় কাঠামোগুলোর একটি। সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ণকালীন মহাপরিচালক না থাকা শিক্ষা প্রশাসনে স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সামনে চ্যালেঞ্জ
নতুন দায়িত্ব পাওয়া খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদের জন্য তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ, এমপিও ব্যবস্থাপনা, নীতিমালা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও তাঁর অগ্রাধিকার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।