জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তুলে ধরেছেন মো. মারুফ আল হাসান। তিনি বলেন, মিছিলে থাকা অবস্থায় তাঁর ডান হাতের কবজির ওপর গুলি লাগে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি ২৫তম সাক্ষী হিসেবে বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দি দেন। এ মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ। সংশ্লিষ্টরা সবাই পলাতক বলে আদালতে জানানো হয়।
রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বাসিন্দা মারুফ আদালতে বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি পড়াশোনা শেষ করে চাকরির চেষ্টা করছিলেন এবং পাশাপাশি ছোট একটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে রাজশাহীর তালাইমারী মোড়ে বিক্ষোভের জন্য জড়ো হন তাঁরা। দুপুরের দিকে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টের উদ্দেশে মিছিল এগোতে থাকলে আলুপট্টি মোড়ে স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে হামলার মুখে পড়েন।
তিনি দাবি করেন, সেখানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে অনেকেই আহত ও গুলিবিদ্ধ হন। একপর্যায়ে তাঁরা পিছু হটলেও পরে পুনরায় সংগঠিত হয়ে এগিয়ে যান। এরপর আবারও হামলা হয়, যেখানে পুলিশও যুক্ত ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তখনই তাঁর ডান হাতের কবজির ওপর গুলি লাগে।
মারুফ আদালতকে জানান, তিনি এখনো চিকিৎসাধীন এবং ডান হাত স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। এ ঘটনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।