রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এর ফলে প্রাথমিক উৎপাদন শুরুর পথে আর প্রশাসনিক কোনো বাধা নেই।
প্রকল্প পরিচালক মো. কবীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে। শিগগিরই প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হতে পারে। এ প্রক্রিয়া শুরু হলে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম এগোবে।
রাশিয়ার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা Rosatom–এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান Atomstroyexport। প্রকল্পের আওতায় ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মিত হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি প্রবেশ করাতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং সমান্তরালে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী জুলাই নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে জ্বালানি প্রবেশের পর দীর্ঘ সময় পরীক্ষামূলক উৎপাদন চালানো প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অন্তত ছয় মাস পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক অনুমোদনের ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের আগে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া কঠিন হতে পারে।