ঢাকা

ব্রাসেলস সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-ইইউ পিসিএ চুক্তি সম্পর্কে নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও কাঠামোবদ্ধ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই চুক্তিকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সহায়তা করবে।

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কালাস চুক্তিটি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুস্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি সূত্র জানায়, উভয় পক্ষই এই চুক্তিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখবে।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালনি স্বাক্ষর করেন।

পরে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই নেতা দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অগ্রগতি, সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং নির্বাচন আয়োজনের প্রশংসাও করা হয়।

আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে বাজার প্রবেশাধিকার ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগ্রহও প্রকাশ করা হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিক সহায়তার জন্য ইইউর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এ সংকটের টেকসই সমাধানে তাদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সফরের অংশ হিসেবে বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বছরের শেষ দিকে ব্রাসেলসে তৃতীয় বাংলাদেশ-বেলজিয়াম দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ সভা আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় উভয় পক্ষ।

এছাড়া ইউরোপীয় কমিশনের স্টার্টআপ, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক কমিশনার একাতেরিনা জাহারিয়েভার সঙ্গে বৈঠকে গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে যৌথ কাজের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

একদিনের এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন, যারা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে সক্রিয় আলোচনা করেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স