ঢাকা

একীভূত শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়নব্যবস্থা চান ডিসিরা, শুরু ৩ মে সম্মেলন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
আগামী ৩ মে থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন, যা চলবে ৬ মে পর্যন্ত। Cabinet Division Bangladesh-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ সম্মেলনকে চলতি বছরের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা সারা দেশ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাঠান। সেখান থেকে বাছাই করে আলোচনার জন্য ৪৯৮টি প্রস্তাব নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্মেলনে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা।

শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব

ডিসিদের প্রস্তাবের মধ্যে শিক্ষা খাত বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দরিদ্র পরিবারের সব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দেশের সব শিশুর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে একীভূত শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ভাষায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও ওঁরাও (সাদরি) জনগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ থাকলেও শিক্ষক সংকটের কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

আইন ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব

ডিসিরা ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দেওয়ার লক্ষ্যে আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা স্থাপনে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব

রাজধানীর Osmani Memorial Auditorium-এ অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। এবার উদ্বোধনসহ পুরো সম্মেলন একই স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে, যা পূর্বের প্রচলিত ধারা থেকে কিছুটা ভিন্ন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। ফলে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার এবং উন্নয়ন কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নীতিনির্ধারণে ডিসিদের ভূমিকা

জেলা প্রশাসকেরা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ সমন্বয়ে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁদের সুপারিশগুলোকে বাস্তবভিত্তিক এবং কার্যকর নীতিনির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এবারের সম্মেলনে শিক্ষা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন—বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসায় এর সিদ্ধান্তগুলো দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স