ঢাকা

আন্দালিভ রহমানের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক, পাল্টা জবাব শফিকুর রহমানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনাকে কেন্দ্র করে সংসদে আবারও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান Andaleeve Rahman Partho ও বিরোধীদলীয় নেতা Shafiqur Rahman-এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

গণমাধ্যমের বক্তব্য উদ্ধৃতি নিয়ে বিরোধের সূচনা

বক্তব্যের শুরুতে পার্থ কয়েকটি সংবাদ শিরোনাম ও গণমাধ্যমের কাটিং তুলে ধরে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সরকার পতনের হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ‘জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার ঘোষণা’ দিয়েছেন—এ ধরনের শিরোনাম তিনি সংসদে পড়ে শোনান।

তবে এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ডেপুটি স্পিকারের একাধিকবার হস্তক্ষেপ

অধিবেশনের এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার Kaiser Kamal বারবার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু উত্তেজনা না কমায় তিনি হাতুড়ি পিটিয়ে ‘অর্ডার, অর্ডার’ বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

তিনি বিরোধী দলকে আসনে বসতে অনুরোধ করলেও শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে থাকেন এবং বক্তব্য চালিয়ে যান।

পার্থের বক্তব্য: রাজনৈতিক ইতিহাস ও দুর্নীতির অভিযোগ

আন্দালিভ রহমান পার্থ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জিয়া পরিবার’ দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ধারক হিসেবে কাজ করেছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ১৬ বছর সময় লেগেছে, কিন্তু বিএনপিকে সরাতে ১৬ দিনও লাগবে না—এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ‘লাগামহীন দুর্নীতি ও চুরি’ হয়েছে। কুইক রেন্টাল প্রকল্পকে তিনি ‘কুইক ডেস্ট্রয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এসব সিদ্ধান্তের কারণে দেশ এখনো অর্থনৈতিক চাপ বহন করছে।

পার্থ বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়ার বিচারের রায় ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল’ এবং বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

পাল্টা জবাব: ‘আমাকে নিয়ে কচলায় সবাই’

পার্থের বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তাকে নিয়ে ‘কচলায় সবাই’—অর্থাৎ বিভিন্ন বক্তব্যে তার নাম জড়িয়ে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, পার্থ তার বক্তব্যে যেসব উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেগুলোর যথাযথ উৎস বা প্রেক্ষাপট পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, কোনো বক্তব্য উদ্ধৃত করার আগে তা সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

‘ডকুমেন্ট বিতর্ক’ ও নতুন উত্তেজনা

পার্থ পরে দাবি করেন, তার কাছে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট রয়েছে এবং তিনি নির্দিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নয়, অন্য এক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। এই মন্তব্যে আবারও বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন এবং সংসদে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ডেপুটি স্পিকার পুনরায় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বক্তব্য সংশোধনের চেষ্টা

পরবর্তীতে পার্থ তার বক্তব্য ব্যাখ্যা করে বলেন, তিনি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করেননি এবং পুরো বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল যুগে কোনো বক্তব্যের উৎস সহজেই যাচাইযোগ্য—এ মন্তব্যও করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা এ সময় বলেন, সংসদে বক্তব্য দিতে হলে তথ্য ও উৎস আরও স্পষ্ট ও নির্ভুল হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক উত্তাপের প্রতিফলন সংসদে

আলোচনার এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য Nurul Islam বলেন, গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চয়তার দিকে যেতে পারে।

সার্বিক চিত্র

এদিনের সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা রাজনৈতিক বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য ও তীব্র উত্তেজনায় রূপ নেয়। একাধিকবার ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ফলে সংসদে জুলাই ইস্যু, জিয়া পরিবার প্রসঙ্গ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা আবারও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স