ঢাকা

দুর্নীতির অভিযোগে সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, বিতর্কে শামা–নাহিদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য Shama Obaid Islam এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ Nahid Islam। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনাকে কেন্দ্র করে এ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

শামা ওবায়েদের অভিযোগ: অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ইঙ্গিত

আলোচনায় অংশ নিয়ে শামা ওবায়েদ অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমের প্রমাণ হলেও ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকারের কিছু নবীন সদস্যের বিরুদ্ধেও গত দেড় বছরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞতা, সাহস ও বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শামা ওবায়েদ বক্তব্যে আরও বলেন, রাজনৈতিক আলোচনা যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়ির পর্যায়ে না নামে। ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থাকত, তবে স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারত।

মুক্তিযুদ্ধকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, বিচারব্যবস্থা কার্যকর থাকবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

নাহিদ ইসলামের পাল্টা জবাব: প্রমাণের দাবি

শামা ওবায়েদের বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ Nahid Islam। তিনি বলেন, সংসদে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হলে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারে থাকা বা পূর্বে দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তির বিষয়ে প্রশ্ন থাকলেও তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। তিনি শামা ওবায়েদের বক্তব্যের জবাবে বলেন, তার (নাহিদের) বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, তাই এসব বক্তব্যের ভিত্তি কী—তা সংসদে পরিষ্কার করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না এনে প্রমাণসহ আলোচনা করাই সংসদীয় শৃঙ্খলার অংশ।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে পারস্পরিক মন্তব্য

বিতর্কের এক পর্যায়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করা। তিনি তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে নাহিদ ইসলাম প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের পূর্ববর্তী দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্বচ্ছতার দাবি জানান।

স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ফলে সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্পিকার Hafiz Uddin Ahmed হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, শামা ওবায়েদ তাঁর বক্তব্যে কারও নাম উল্লেখ করেননি এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অধিবেশন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যায়।

সার্বিক চিত্র

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়েও এদিন সংসদে রাজনৈতিক উত্তাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থান আবারও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স