ঢাকা

এস আলমকে ঘিরে কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য, সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন সংশোধনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য Saiful Alam Khan সংশোধিত আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

‘জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে’—এস আলম প্রসঙ্গ

আলোচনায় সাইফুল আলম খান বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে সংশোধনের মাধ্যমে “জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে”। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সেই জানালা দিয়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী S Alam Group আবার ব্যাংক খাতে প্রবেশ করতে পারে।

তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক থেকে একদিনে ৭০৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক থেকে ধারাবাহিকভাবে অর্থ উত্তোলন ও তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে।

সাইফুল আলম খান বলেন, “দেশের একাধিক বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে। এই লুটপাটের সঙ্গে এস আলম ও তার সহযোগীদের নাম জড়িত।”

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্ট ২০২৬ সংশোধনের ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে “সেই জানালা দিয়ে এস আলম আবার ফিরে আসতে পারে”। এ সময় তিনি ইসলামী ব্যাংক রক্ষা ও এর গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার ওপর জোর দেন।

ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ

তিনি বলেন, দেশের একটি বড় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ। কোনো ধরনের ধস বা আস্থার সংকট তৈরি হলে তা পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইস্যু

একই বক্তব্যে সাইফুল আলম খান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাতিল হওয়ায় রাষ্ট্র আবারও পুরোনো জবাবদিহিহীন কাঠামোর দিকে ফিরে যাচ্ছে।

তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করার বিষয়েও সমালোচনা করেন। তার মতে, এসব সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।

তিনি একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।

জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য

আলোচনায় অংশ নিয়ে আরেক জামায়াত সংসদ সদস্য Shahjahan Chowdhury দলের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরেন।

তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অতীতে জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ঐতিহাসিক রাজনৈতিক আন্দোলনে দলটি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং স্বাধিকার আন্দোলনে অবদান রেখেছে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতের বিভিন্ন গণআন্দোলনে দলের নেতারা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে ভূমিকা রেখেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে জাতীয় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।

সার্বিক চিত্র

ব্যাংকিং খাত সংস্কার আইন সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা—এই তিনটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদে দিনভর তর্ক-বিতর্ক চলে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক ও এস আলম গ্রুপকে ঘিরে সাইফুল আলম খানের বক্তব্য নতুন করে ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতের আরেক সদস্যের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বক্তব্যও সংসদের আলোচনাকে আরও বিস্তৃত ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিয়ে যায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স