ঢাকা

বাংলাদেশে নির্বাচন সংস্কারে ইইউর ১৯ সুপারিশ, নজর স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন মোট ১৯টি সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশের মধ্যে ছয়টিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউইওএম) প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য Ivars Ijabs।

‘২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মূল্যায়ন উপস্থাপন করে ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে বেশি বিশ্বাসযোগ্য ছিল। তাঁর মতে, এ নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোটামুটি কার্যকর ছিল এবং ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রচার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে মূল্যায়ন

ইইউ মিশনের প্রধান জানান, নির্বাচনী প্রচারণা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে এবং প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণা কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হয়েছেন। রাজনৈতিক সংকট বা অভিযোগ দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে সংলাপের সুযোগ ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে উদ্ভূত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক স্বচ্ছতায় জোর দেওয়ার পরামর্শ

তবে নির্বাচনব্যবস্থার আর্থিক দিক নিয়ে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইইউ প্রতিনিধি। তিনি বলেন, নির্বাচনী অর্থায়ন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা বাড়ানো ভবিষ্যতে আরও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১৯ সুপারিশ ও অগ্রাধিকারভিত্তিক ৬টি দিক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশন জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে মোট ১৯টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি সুপারিশকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করা হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।

যদিও সংবাদ সম্মেলনে সব সুপারিশ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে মিশনটি জানিয়েছে—নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতা, অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা এসব সুপারিশের মূল লক্ষ্য।

সার্বিক মূল্যায়ন

ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে একদিকে নির্বাচনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স