জ্বালানি তেল উৎপাদক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্ধান্ত
বর্তমানে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত।
এই পরিস্থিতিতে ওপেকভুক্ত উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। সরবরাহ সংকট ও পরিবহন অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে তেলের দামে ওঠানামা বাড়িয়েছে।
আমিরাতের অভিযোগ ও অবস্থান
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের হামলা থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আরব দেশগুলো প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখেনি। এ কারণেই জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় তারা ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি কূটনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
ওপেকের বর্তমান সদস্য কাঠামো
আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার পর ওপেকের সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১১-এ। বর্তমান সদস্য দেশগুলো হলো—
OPEC-এর সদস্য সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ভেনেজুয়েলা, আলজেরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, গ্যাবন, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।
এছাড়া ওপেক প্লাস কাঠামোর অংশ হিসেবে আরও কয়েকটি দেশ যুক্ত রয়েছে।
ওপেক প্লাস কাঠামো
OPEC+ জোটে ওপেক সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, ব্রুনেই, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, ওমান, দক্ষিণ সুদান ও সুদান রয়েছে।
এই জোট মূলত বৈশ্বিক তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএই-এর এই সিদ্ধান্ত ওপেকের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে এবং বৈশ্বিক তেল বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখন নজর থাকবে, ইউএই-এর এই সিদ্ধান্তের পর ওপেক এবং ওপেক প্লাস জোট কী ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানায়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক