বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ‘মারকেটর’ মানচিত্রে আফ্রিকাসহ বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি থাকা ভূখণ্ডগুলো বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখানো হয়। দীর্ঘদিনের এই চিত্র বদলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তন তুলনামূলকভাবে সঠিকভাবে তুলে ধরতে নতুন একটি মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘ।
শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ১৬৪-১ ভোটে পাস হয়েছে। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবের বিপক্ষে একমাত্র ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আফ্রিকার দেশগুলোর উদ্যোগে উত্থাপিত এই প্রস্তাবের নেতৃত্ব দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। এতে ষোড়শ শতাব্দীতে তৈরি এবং কয়েক শতাব্দী ধরে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্রের ব্যবহার কমিয়ে ‘ইকুয়াল আর্থ’ বা সমানুপাতিক আয়তন তুলে ধরা মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আফ্রিকার দেশগুলোর মতে, মানচিত্রে ভূখণ্ডের আয়তনের এই দীর্ঘদিনের বিকৃতি শুধু ভৌগোলিক তথ্যের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে মানুষের ধারণা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ঔপনিবেশিক ইতিহাসেরও সম্পর্ক রয়েছে।
মারকেটর মানচিত্রে কোথায় সমস্যা
মারকেটর মানচিত্র ষোড়শ শতাব্দীতে নাবিকদের সমুদ্রপথে দিকনির্দেশনা দেওয়ার সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল কাগজে তুলে ধরার সময় নির্দিষ্ট কিছু বিকৃতি এড়ানো সম্ভব নয়। মারকেটর মানচিত্রে দিক ও কোণের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলনামূলকভাবে কার্যকরভাবে দেখানো গেলেও ভূখণ্ডের প্রকৃত আয়তন বিকৃত হয়ে যায়।
বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি থাকা অঞ্চলগুলো মানচিত্রে বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখায়।
এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ গ্রিনল্যান্ড। প্রচলিত মারকেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার কাছাকাছি বা প্রায় সমান আয়তনের মনে হতে পারে। বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।
একইভাবে কানাডা, রাশিয়া ও উত্তর ইউরোপের মতো উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলগুলোও মানচিত্রে বাস্তব আয়তনের তুলনায় বড় দেখা যায়। অন্যদিকে বিষুবরেখার কাছাকাছি থাকা আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো বিশাল ভূখণ্ড তুলনামূলকভাবে ছোট মনে হয়।
ফলে বহু প্রজন্ম ধরে স্কুল, সংবাদমাধ্যম, বই এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত এই মানচিত্র বিশ্বের ভূগোল সম্পর্কে মানুষের চোখে একটি বিকৃত চিত্র তৈরি করেছে—এমন যুক্তি তুলে ধরছে আফ্রিকার দেশগুলো।
‘একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয়’
জাতিসংঘে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই বিষয়টি নিয়ে রয়টার্সকে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয়।’
দুসেইয়ের বক্তব্যে মানচিত্র পরিবর্তনের উদ্যোগের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্যও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলকে মানচিত্রে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তার সঙ্গে সেই অঞ্চল সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিরও সম্পর্ক রয়েছে।
আফ্রিকার দেশগুলোর ধারণা, মারকেটর মানচিত্রে মহাদেশটির আয়তন দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবের তুলনায় ছোট করে দেখানো হয়েছে। এর ফলে আফ্রিকাকে বিশ্বের প্রান্তিক বা কম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল হিসেবে দেখার যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
তাদের মতে, বিশ্বের ভূখণ্ডগুলোর প্রকৃত আয়তন তুলনামূলকভাবে সঠিকভাবে তুলে ধরা হলে পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের ধারণাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিপুল ভোটে প্রস্তাবটি পাস হলেও এর কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে অবিলম্বে মারকেটর মানচিত্র বাদ দিয়ে ইকুয়াল আর্থ মানচিত্র ব্যবহার করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি।
টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্পষ্ট করেছে, সমুদ্র ও আকাশপথে নেভিগেশনের কাজে মারকেটর মানচিত্র ব্যবহারে এই প্রস্তাব কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না।
কারণ নেভিগেশনের ক্ষেত্রে মারকেটর প্রক্ষেপণ এখনো কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতলে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কোনো একটি মানচিত্র সব ধরনের কাজের জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। তাই টোগোর উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত সাধারণ শিক্ষা ও বিশ্বের ভূখণ্ডের আয়তন উপস্থাপনে বিকল্প মানচিত্রের ব্যবহার বাড়ানো।
অর্থাৎ, নেভিগেশনে মারকেটর মানচিত্রের ব্যবহার বন্ধ করার দাবি নয়; বরং যেখানে ভূখণ্ডের প্রকৃত আয়তন তুলনা করা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে আরও উপযুক্ত মানচিত্র ব্যবহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটির বিপক্ষে একমাত্র ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ একটি ‘আদর্শিক এজেন্ডা’ এগিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুসম্পর্কের মতো ‘প্রকৃত সমস্যাগুলো’ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারে।
ফলে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে প্রস্তাবটি পাস হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে ভিন্নমতও স্পষ্ট হয়েছে।
তবে প্রস্তাবের পক্ষে ১৬৪টি দেশের ভোট দেখিয়েছে যে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বড় একটি অংশ অন্তত বিশ্বের মানচিত্রে ভূখণ্ডের আয়তন উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তাকে সমর্থন করছে।
এ বছরই স্কুলের বই বদলাতে চায় টোগো
জাতিসংঘের ভোটকে শুধু প্রতীকী সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না টোগো। দেশটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ নিজেদের স্কুলের ভূগোলের বই ও শিক্ষাসামগ্রীতে নতুন মানচিত্র চালু করার পরিকল্পনা করছে।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই বলেন, ‘ভূগোলের বই বদলানো প্রথম দেশ হবে টোগো।’
তিনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে আমাদের এটি পরিবর্তন করতে হবে, যাতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর জন্য একটি উদাহরণ তৈরি হয়।’
টোগোর এই উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের আয়তন সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে সঠিক ধারণা দেওয়া।
দুসেইয়ের মতে, শ্রেণিকক্ষে যে মানচিত্র ব্যবহার করা হয়, তা শুধু ভূগোল শেখানোর একটি উপকরণ নয়; এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পৃথিবীকে কীভাবে দেখতে হবে, সেই ধারণাও তৈরি করে।
আফ্রিকার অন্য দেশগুলোতেও ব্যবহারের উদ্যোগ
টোগো শুধু নিজেদের শিক্ষাব্যবস্থায় মানচিত্র পরিবর্তন করেই থামতে চায় না। দেশটি অন্যান্য সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ইকুয়াল আর্থ মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করছে।
দুসেই বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্র এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন মানচিত্রের ব্যবহার কীভাবে আরও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
এর ফলে উদ্যোগটি শুধু একটি দেশের শিক্ষা উপকরণ পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচারে রূপ নিতে পারে।
জিপিএস ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও যুক্ত করতে চায় টোগো
বর্তমান বিশ্বে মানচিত্র ব্যবহারের ক্ষেত্র শুধু কাগজের বই বা দেয়ালে ঝোলানো মানচিত্রে সীমাবদ্ধ নেই। গুগল ম্যাপসসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ম্যাপিং সেবা, জিপিএস এবং অবস্থানভিত্তিক প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
তাই টোগো মনে করছে, নতুন মানচিত্রের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রযুক্তি খাতকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
দুসেই জানান, পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনায় মানচিত্র, জিপিএস এবং অন্যান্য অবস্থানভিত্তিক প্রযুক্তি পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোকেও যুক্ত করতে হবে।
এর ফলে উদ্যোগটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে ডিজিটাল মানচিত্র ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।
ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার নিয়ে প্রশ্ন
টোগোর নেতৃত্বে এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সঙ্গে এর সম্পর্ক।
দুসেই মনে করেন, মারকেটর মানচিত্রের ব্যাপক ব্যবহারের পেছনে ঔপনিবেশিকতার প্রভাব রয়েছে। তাঁর দৃষ্টিতে, বহু শতাব্দী ধরে ইউরোপকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে যে মানচিত্রটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটির মাধ্যমে বিশ্বের ভূগোল সম্পর্কেও একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, এই উদ্যোগ ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়। বরং বিশ্বের ভূগোলকে আরও যথাযথভাবে উপস্থাপন করাই এর উদ্দেশ্য।
দুসেই বলেন, ‘বিশ্ব বদলে যাচ্ছে। বদলাচ্ছে আফ্রিকাও।’
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি মানচিত্র পরিবর্তনের উদ্যোগকে আফ্রিকার বৃহত্তর আত্মপরিচয় ও বৈশ্বিক অবস্থান পুনর্নির্ধারণের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
মানচিত্র কি সত্যিই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে?
ভূগোলের মানচিত্র কখনোই পৃথিবীর নিখুঁত প্রতিচ্ছবি নয়। পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতলে তুলে ধরতে গেলে কোনো না কোনো ধরনের বিকৃতি তৈরি হয়। কোন বৈশিষ্ট্যকে তুলনামূলকভাবে সঠিক রাখা হবে—দিক, দূরত্ব, আকৃতি নাকি আয়তন—তার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন মানচিত্র প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয়।
মারকেটর মানচিত্রের মূল সুবিধা ছিল নেভিগেশনে দিক ও কোণ নির্ধারণে এর কার্যকারিতা। কিন্তু ভূখণ্ডের আয়তন তুলনা করার ক্ষেত্রে এটি উপযুক্ত নয়।
অন্যদিকে ইকুয়াল আর্থ ধরনের সমানুপাতিক আয়তনভিত্তিক মানচিত্রে বিভিন্ন মহাদেশ ও দেশের আয়তন তুলনামূলকভাবে বাস্তবের কাছাকাছি রাখা হয়। ফলে আফ্রিকা যে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মহাদেশ, সেটি মানচিত্রে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
টোগোর উদ্যোগের মূল যুক্তি এখানেই—মানচিত্রের উদ্দেশ্য যদি পৃথিবীর ভূখণ্ড সম্পর্কে মানুষের বাস্তব ধারণা তৈরি করা হয়, তাহলে সেই কাজে আয়তনের বিকৃতি যতটা সম্ভব কমানো উচিত।
আফ্রিকার জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে এই বিতর্কের গুরুত্ব শুধু মানচিত্রের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় আটকে নেই। এর সঙ্গে মহাদেশটির বৈশ্বিক ভাবমূর্তির বিষয়টিও জড়িত।
আফ্রিকা আয়তনে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। কিন্তু প্রচলিত মারকেটর মানচিত্রে উচ্চ অক্ষাংশের তুলনামূলক ছোট ভূখণ্ডগুলো অনেক বড় দেখানোর কারণে আফ্রিকার বিশালতা অনেক সময় দৃশ্যত আড়াল হয়ে যায়।
টোগোর নেতৃত্বে আফ্রিকার দেশগুলো তাই মনে করছে, বিশ্বের মানচিত্রে মহাদেশটির প্রকৃত আয়তন যথাযথভাবে তুলে ধরা একটি প্রতীকী পরিবর্তনের চেয়েও বেশি কিছু। এটি আফ্রিকা সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ধারণা পুনর্বিবেচনার একটি সুযোগ।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোট সেই বিতর্ককে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। যদিও প্রস্তাবটি বাধ্যতামূলক নয়, তবু ১৬৪টি দেশের সমর্থন এবং টোগোর পরবর্তী উদ্যোগ দেখাচ্ছে, বিশ্বের মানচিত্র কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা হবে—এ প্রশ্নটি এখন আর শুধু ভূগোলের শ্রেণিকক্ষের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই।
বরং মানচিত্রের মাধ্যমে পৃথিবীকে কীভাবে দেখা হবে, কোন অঞ্চলকে কতটা বড় বা ছোট হিসেবে কল্পনা করা হবে এবং ঔপনিবেশিক যুগের উত্তরাধিকার কীভাবে মোকাবিলা করা যায়—এসব বৃহত্তর প্রশ্নও এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।