রাজধানীতে অবস্থিত Shanto-Mariam University of Creative Technology-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন সেমিস্টারের নবীনবরণ অনুষ্ঠান। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উইন্টার, সামার, স্প্রিং ও ফল সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন University of Dhaka-এর উপাচার্য A B M Obaidul Islam। তিনি বলেন, “যা পেয়েছি, আমি তা চাই না, যা চেয়েছি, কেন তা পাই না—জাতীয় কোনো আক্ষেপ শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনদের মধ্যে নেই বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।” শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার বাইরে থেকেও সাধারণ সিজিপিএ নিয়ে বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষার যে সুযোগ তারা পেয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও মানবিকতা গড়ে তুলতে হবে।
কর্মমুখী শিক্ষায় জোর
শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ারবান্ধব ও কর্মমুখী বিভিন্ন প্রোগ্রামের প্রশংসা করে উপাচার্য বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গবেষণা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও মানবিক গ্র্যাজুয়েট তৈরি করবে।
আয়োজনে প্রশাসন ও ট্রাস্টি বোর্ডের উপস্থিতি
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাহ-ই-আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী Mostafizul Haque, শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির, ডেজিগনেটেড ট্রেজারার অধ্যাপক মুহাম্মাদ আবদুল হালীম শেখসহ বিভিন্ন বিভাগের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সূচনা
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরিচয়পর্ব শেষে স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার পাড় মশিয়ূর রহমান এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক।
এছাড়া অনুষ্ঠানে শান্ত-মারিয়াম হোংহে কনফুশিয়াস ক্লাসরুমের চীনা পরিচালক ওয়াং লিকুইং এবং বাংলাদেশি পরিচালক প্রফেসর মো. মহিউদ্দিন তাহের উপস্থিত ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার দিকটিও তুলে ধরে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণবন্ততা
দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল বর্ণিল ফ্যাশন শো, সংগীত পরিবেশনা ও নৃত্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি (এফডিটি) এবং সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সমাপনী আয়োজন
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় র্যাফল ড্র এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন। দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের জন্য অনুপ্রেরণা জোগানো হয়।
প্রাসঙ্গিকতা
শিক্ষার্থীদের জন্য এমন নবীনবরণ অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও সৃজনশীল পরিবেশে অন্তর্ভুক্তির একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।