ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৪৯ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে গেজেট জারি করেছে Election Commission of Bangladesh (ইসি)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এই গেজেটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট থেকে মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
গেজেট অনুযায়ী, মোট ৪৯টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) পেয়েছে ৩৬টি আসন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট এবং National Citizen Party (NCP)সহ সমন্বিত জোটের প্রার্থীরা পেয়েছেন ১২টি আসন। বাকি একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
গেজেট প্রকাশ ও শপথ প্রক্রিয়া
ইসি সূত্র জানায়, গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হবে। শপথ শেষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে একটি আসন নিয়ে আইনি জটিলতা থাকায় সেটির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এর আগে বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান ৪৯ জন বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। সেই তালিকার ভিত্তিতেই পরবর্তী ধাপে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকা
গেজেটে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরীসহ মোট ৩৬ জন নারী প্রার্থী।
১১–দলীয় জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, নাজমুন নাহার, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদসহ মোট ১২ জন।
এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী সুলতানা জেসমিনের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মনোনয়ন ঘিরে আইনি জটিলতা
নির্বাচন প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এর মধ্যে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয় সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির নির্ধারিত সময় পূরণ না হওয়ায়। পরে তিনি ইসিতে আপিল করলেও তা খারিজ হয়। এরপর তিনি বিষয়টি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় আরেক এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন প্রথমে গ্রহণ করা হয়নি। তবে আদালতের নির্দেশে ইসি তার মনোনয়ন গ্রহণ করে এবং আগামী ২ মে যাচাই–বাছাইয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। যাচাই শেষে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বা মনোনয়ন বাতিলও হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সংরক্ষিত নারী আসনে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সংসদের নতুন মেয়াদে নারী প্রতিনিধিত্বের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় সম্পন্ন হলো। তবে কয়েকটি আসন ঘিরে চলমান আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে না বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সংসদের রাজনৈতিক সমীকরণে নারী প্রতিনিধিত্বের আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শুরু হলেও কিছু আসনের আইনি জটিলতা ভবিষ্যতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।