ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নতুন বিতর্ক, তৃণমূলের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মধ্য কলকাতায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমকে ঘিরে পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভোট গণনা–প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের সময় এ বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্ট্রংরুমের ভেতরে থাকা পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ ও বাছাই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে এবং সেখানে অস্বচ্ছভাবে বাইরের লোকজনের যাতায়াত দেখা গেছে। তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত আইন ও নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসারেই পরিচালিত হচ্ছে।

পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত

ভারতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারলে তাঁদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। এসব ব্যালট পরে নির্দিষ্ট স্ট্রংরুমে সংরক্ষণ করে গণনার আগে পৃথকীকরণ ও যাচাই–বাছাই করা হয়।

এবার সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়েই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুম ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করে।

প্রার্থীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ

বৃহস্পতিবার বিকেলে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা অভিযোগ করেন, সিল করা স্ট্রংরুমে নিয়ম ভেঙে বাইরের ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচল দেখা গেছে। তাঁরা একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে দাবি করেন, সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অবাধে ঘোরাফেরা করা হচ্ছে।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং পুনরায় নিরাপত্তা যাচাইয়ের দাবি জানান। কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তখন তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগানে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া আগেই সব প্রার্থী ও পর্যবেক্ষকদের জানানো হয়েছিল। কমিশনের মতে, ৩০ এপ্রিল বিকেল ৪টা থেকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ব্যালট পৃথকীকরণ শুরু হয়।

কমিশন আরও জানায়, পৃথকীকৃত ব্যালটগুলো বারাসাতে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গণনা কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জেনারেল অবজারভার ও প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিত থাকার সুযোগ রাখা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা নির্দেশ

ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ভিডিও বার্তায় নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেন। তিনি ইভিএম ও স্ট্রংরুমের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে তিনি নিজেও ভবানীপুর আসনের প্রার্থী হিসেবে একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

কমিশনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের ভোট গণনা ও স্ট্রংরুম ব্যবস্থাপনায় ইসিআই-নেট নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গসহ মোট পাঁচটি রাজ্যে এই প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ভোটসংক্রান্ত তথ্য ও নিরাপত্তা আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত থাকে।

রাজনৈতিক উত্তাপ অব্যাহত

পোস্টাল ব্যালটকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল ও বিরোধী পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে পরিস্থিতি এখন নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স