দুদকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে দুবাই ট্রানজিটে থাকাকালীন দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘এনসিবি আবুধাবি’ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ‘এনসিবি ঢাকা’ শাখায় এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেখানে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাবেক আইজিপিকে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া এবং আমিরাতের চিঠিতে উল্লিখিত শর্তাবলির বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
ফেডারেল আইনে আমিরাতের বিচারিক প্রক্রিয়া
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত দেশটির ‘ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬’-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। দুবাই থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ভিত্তিতে ইস্যু করা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ (নং- A-5174/4-2025) অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমের সাহায্যে লিখিতভাবে বাংলাদেশ সরকারকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ জমা দিতে হবে, অন্যথায় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রত্যর্পণ আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ শর্ত ও নথি
আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য মূল অনুরোধপত্রের সঙ্গে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সম্পূর্ণ আরবি ভাষায় অনুবাদ করে, উপযুক্ত স্বাক্ষর ও সিলমোহরসহ জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিসমূহ নিম্নরূপ:
ব্যক্তিগত তথ্য: অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্ণ নাম, বিস্তারিত বিবরণ, ছবি এবং তাঁর জাতীয়তা ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য।
আইনি ধারা ও শাস্তি: যে অপরাধের জন্য তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনে তার সুনির্দিষ্ট ধারা, সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সীমাবদ্ধতার সংবিধির কপি।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মূল কপি।
তদন্ত প্রতিবেদন: মামলার ঘটনার বিবরণ, অপরাধের ধরন, সময় ও স্থান উল্লেখপূর্বক পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি।
আদালতের রায় (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে): যদি ব্যক্তিটি ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, তবে আদালতের রায় এবং সাজা কার্যকরের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা
বাংলাদেশ পুলিশ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র প্রস্তুত করার কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই ফাইলটি দ্রুত আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আবুধাবিতে পাঠানো হবে। নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে নথিপত্র পৌঁছালে আমিরাতের আদালত প্রত্যর্পণ আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ দলের কাছে হস্তান্তর করবে।