নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার বিচার দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্টজনেরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের কলেজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তাঁরা এ মন্তব্য করেন।
ত্বকী হত্যার ১৫৮ মাস পূর্তি উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। সংগঠনটি ২০১৩ সাল থেকে প্রতি মাসের ৮ তারিখে বিচার দাবিতে ধারাবাহিকভাবে এই কর্মসূচি পালন করে আসছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ত্বকী হত্যা মামলার বিচার না হওয়া দেশের বিচারব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, এই বিচার শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িত।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে দেশে দুই দফা সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মামলার অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ত্বকীর বাবা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বিও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের যে প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ আন্দোলনে নেমেছিল, বাস্তবে সেই লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। বরং সমাজে নানা ধরনের বৈষম্য আরও বেড়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
রফিউর রাব্বির ভাষ্য, বিচারব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি বলেন, ত্বকী হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দেশের বাইরে অবস্থান করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন, অথচ এত বছর পরও মামলার বিচার শেষ হয়নি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সাংস্কৃতিক সংগঠক ভবানী শংকর রায়, জিয়াউল ইসলাম, প্রদীপ ঘোষ, ধীমান সাহাসহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে র্যাবের তদন্তে হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এলেও এখন পর্যন্ত মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়নি।