সরকার গণভোটের রায় ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বৈষম্যমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) যেভাবে ‘ব্যাক পাস’ খেলছে, তাতে উল্টো গোল খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে Saidpur Airport-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ Bangladesh Jamaat-e-Islami-এর সেক্রেটারি জেনারেল এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় উপেক্ষার অভিযোগ
গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং গণভোটে অংশও নিয়েছিল। কিন্তু এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও গণভোটের রায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
তিনি দাবি করেন, জনগণের একটি বড় অংশের মতামত উপেক্ষা করে সরকার পরিচালিত হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক নয়।
উন্নয়নে আঞ্চলিক ও দলীয় প্রাধান্যের অভিযোগ
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্প বণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা বজায় রাখা হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, একটি নির্দিষ্ট এলাকাতেই সিটি করপোরেশন, নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের মতো একাধিক বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা উন্নয়ন কার্যক্রমের বিরোধিতা করি না; বরং উন্নয়নকে উৎসাহিত করি। তবে আঞ্চলিকতা কিংবা সরকারদলীয় বিবেচনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের সব অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনায় সমতা নিশ্চিত করতে হবে।”
সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার দাবি
Saidpur Airport-কে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এটি। এ দাবি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
‘ব্যাক পাস খেললে উল্টো গোল খাওয়ার আশঙ্কা’
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, “জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো উপেক্ষা করা কখনোই কল্যাণকর নয়। বিএনপি যেভাবে জনস্বার্থের বিষয়ে ব্যাক পাস খেলছে, তাতে উল্টো গোল খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
তিনি মনে করেন, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের অমিল ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, অতীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন করা অনেকেই এখন বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত ও হয়রানি করছেন।
বিশেষ করে সরকারের সমালোচনা করেন বা নীতিগত ভুল তুলে ধরেন—এমন সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সফরসঙ্গী ও অভ্যর্থনা
এর আগে শনিবার সকালে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে সৈয়দপুরে পৌঁছান গোলাম পরওয়ার। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন-এর সভাপতি আতিকুর রহমান এবং সহসভাপতি গোলাম রব্বানী।
বিমানবন্দরে তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান।
পরে তাঁরা পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হন।
রাজনৈতিক বার্তা
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে উন্নয়ন বণ্টনে সমতা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন—এই চারটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াত আগামী দিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও জনসম্পৃক্ত দাবিগুলোকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনছে।