ঢাকা

রূপপুর প্রকল্পে ড্রেসিং টেবিল কেনায় কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনাকাটায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে, যার ফলে কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ড্রেসিং টেবিলের প্রকৃত বাজারদর যেখানে প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ টাকা, সেখানে একই ধরনের কিছু টেবিলের মূল্য প্রকল্পে দেখানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাজারদরের প্রায় ১৮ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের আবাসন এলাকা ‘গ্রিন সিটি’র জন্য মোট ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়। এর মধ্যে ২১টি টেবিল কেনা হয়েছে প্রতিটি সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দরে। আবার কিছু টেবিলের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং বেশির ভাগের মূল্য ৪০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে দেখানো হয়েছে।

সিএজির তথ্য অনুযায়ী, এসব ড্রেসিং টেবিলের প্রকৃত মোট মূল্য হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকল্পে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ফলে শুধু এই একটি খাতেই অতিরিক্ত খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আসবাবপত্র পরিবহন ও বিভিন্ন ফ্লোরে পৌঁছে দেওয়ার খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। যদিও প্রাথমিক প্রস্তাবে প্রতিটি টেবিলের আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ মূল্য ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা, পরে বাস্তবায়নের সময় তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একই প্রকল্পে একই ধরনের পণ্যের দামে এত বড় পার্থক্য স্বাভাবিক নয় এবং এতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষার সময় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এসব কেনাকাটা সম্পন্ন হয়। ওই সময় প্রকল্প পরিচালক ছিলেন মো. শওকত আকবর। এর আগেও রূপপুর প্রকল্পে বালিশ, বিছানার চাদর ও অন্যান্য আসবাব কেনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বিশেষ করে একটি বালিশের দাম ও তা বহনের খরচ নিয়ে সমালোচনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল।

সিএজির প্রতিবেদনে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে এত অভিযোগ ও তদন্তের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেবল চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, প্রকল্পে যেসব অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, যাঁরা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের আইনের আওতায় আনা উচিত।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স