ঢাকা

শ্রেণিচরিত্রে মিল আছে বিএনপি–আওয়ামী লীগের: এবি পার্টি চেয়ারম্যান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব, বুর্জোয়া রাজনৈতিক কাঠামো এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন মজিবুর রহমান মঞ্জু। তাঁর মতে, দেশের জনগণ এই দুই দলের পার্থক্য নির্ধারণ করবে তাদের শাসনামলের বাস্তব অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে দুর্নীতি, দলীয়করণ, সন্ত্রাস এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো সূচকের ভিত্তিতে।

শুক্রবার বিকেলে ফেনীতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর ফেনী জেলা শাখা।

‘গণ–অভ্যুত্থানের পরও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি’

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনও দৃশ্যমান হয়নি। জনগণ যদি শাসনব্যবস্থায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন দেখতে না পায়, তাহলে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক হতাশা ও ক্ষোভ বাড়াতে পারে।

তিনি বলেন,
“জনগণ এখন দেখবে দুর্নীতি কমেছে কি না, দলীয়করণ বন্ধ হয়েছে কি না, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ কমেছে কি না। এই চারটি বিষয়ই জনগণের রাজনৈতিক মূল্যায়নের মূল ভিত্তি।”

‘নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে’

এবি পার্টির ছয় বছরের রাজনৈতিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন তুলে ধরে মঞ্জু বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলার প্রচেষ্টা পুরোপুরি সফল না হলেও মানুষের মধ্যে নতুন রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে ঋণখেলাপি, বড় ব্যবসায়ী, ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহারকারী ও নির্যাতিত পরিচয়ের রাজনীতিকরা ভোটে সুবিধা পেয়েছেন। তবে এবার জনগণের মধ্যে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।

‘সংস্কার বনাম দ্রুত নির্বাচন’ নিয়ে বিতর্ক

সংস্কার ইস্যুতে রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে এবি পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, দলটি একটি কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তাঁর মতে, নির্বাচন আগে না দিয়ে রাষ্ট্রীয় সিস্টেমে সংস্কার আনা জরুরি ছিল।

তিনি দাবি করেন,
“আমরা চেয়েছিলাম আগে সংস্কার। কিন্তু বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছে। কারণ, সংস্কার হলে তাদের অনেক নেতাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না।”

তবে তাঁর এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

‘পুরোনো সিস্টেম বদল না হলে সংস্কার অসম্ভব’

মঞ্জু আরও বলেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো পুরোনো ধাঁচের হওয়ায় সেখানে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর মতে, সিস্টেম অপরিবর্তিত থাকলে ক্ষমতাসীন বা বিরোধী—উভয় পুরোনো দলই সুবিধা পেতে থাকে।

তিনি বলেন,
“যতক্ষণ পর্যন্ত সিস্টেম পরিবর্তন করা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাস্তব সংস্কার সম্ভব নয়।”

ফেনীতে রাজনৈতিক কর্মশালা

ফেনী শহরের মিজান রোডে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক আফলাতুন বাকী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব প্রভাষক ফজলুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম এবং জেলা আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ।

কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শাহীন সুলতানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক নাজরানা হাফিজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ বি সিদ্দিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন এবি যুব পার্টি-এর আহ্বায়ক শফিউল্লাহ পারভেজ, সদস্যসচিব ইব্রাহিম সোহাগ এবং ছাত্রপক্ষ ফেনী জেলা শাখার নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ইউনিটের দুই শতাধিক নেতা–কর্মী।

রাজনৈতিক বার্তা ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবি পার্টি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমালোচনামূলক অবস্থান এবং ‘তৃতীয় শক্তি’ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্কার বনাম নির্বাচন নিয়ে চলমান জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কেও এই বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ফেনীর এই কর্মশালাকে ঘিরে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করার কৌশল অব্যাহত রেখেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স