ঢাকা

ভারতের ‘পুশ ইন’ নীতির সমালোচনা, সুসম্পর্কের শর্ত জানালেন সাইফুল হক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতকে সীমান্তে কথিত ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঠেলে পাঠানোর কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাইফুল হক। একই সঙ্গে তিনি ভারত সরকারকে বাংলাদেশবিরোধী সব ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি–এর ঢাকা মহানগর কমিটির এক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দলটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সীমান্ত ইস্যুতে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা

সভায় সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

তাঁর অভিযোগ, একদিকে ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বললেও অন্যদিকে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এসব কার্যক্রম দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান আস্থার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অবৈধ অভিবাসন বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব

ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, একইভাবে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক রীতি এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান স্বীকৃত প্রক্রিয়ার আওতায় সম্পন্ন হওয়া উচিত। সীমান্তে একতরফা বা অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে কাউকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে বলেও তিনি মত দেন।

সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্কের আহ্বান

সাইফুল হক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারত কিংবা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী Border Security Force (BSF)–এর কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার যেকোনো সমস্যা সমাধানে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌম মর্যাদার নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমেই দ্বিপক্ষীয় জটিলতার সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যুতের দাম নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত

সভায় দেশের বিদ্যুৎ খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন সাইফুল হক। তিনি নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি মূল্য প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

তবে একই সঙ্গে তিনি সরকারের পূর্বঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

দুর্নীতি ও অপচয় কমালে মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান নানা সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে সাইফুল হক বলেন, খাতে চুরি, দুর্নীতি, অপচয় এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বারবার বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না।

তিনি দাবি করেন, খাতটির সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়বে এবং জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দিয়েও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি চূড়ান্ত

ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সভায় আগামী ১৪ জুন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর কমিটির বিভিন্ন কর্মসূচিও চূড়ান্ত করা হয়। দলীয় নেতারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত ইস্যু, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়েও মতামত তুলে ধরেন। দলটির পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে সরকারকে আরও কার্যকর ও জনমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স