রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটিকে নদী থেকে তুলে ঘাটে থাকা একটি ফেরিতে নিয়ে আসে।
সকালে ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির র্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, কারণ ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পর চালক ও তাঁর সহকারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাসে থাকা যাত্রীদের মালামাল শনাক্ত করে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাসচালক ঝন্টু আলী জানান, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ বাসের ব্রেক কাজ না করায় সেটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ফেরির র্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। তিনি ও তাঁর সহকারী জানালা দিয়ে বের হয়ে প্রাণে বাঁচেন।
বাসের এক যাত্রী, শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, প্রথমে অনেক যাত্রী বাস থেকে নামতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। পরে নৌপুলিশের তৎপরতায় সবাই নিচে নেমে যান। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাসটি নদীতে পড়ে গেলে সবাই বুঝতে পারেন, সময়মতো নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই তাঁদের জীবন বাঁচিয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির স্থানীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীদের ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে নামতে বলা হয়েছিল। পুলিশও এ কাজে সহযোগিতা করে। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পরপরই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, যাত্রীদের সচেতনতা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তদন্ত শেষে দায় ও কারণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, বাসে থাকা মালামাল যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যাত্রীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে একই ঘাটে আরেকটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।