দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দফায় কমানো হয়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবার সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯১ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই সংশোধিত মূল্যহার দেশব্যাপী কার্যকর করা হয়েছে।
স্বর্ণের ক্যারেট ভিত্তিক নতুন মূল্য তালিকা এবং বিগত সময়ের বাজার বিশ্লেষণের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের নতুন মূল্যতালিকা
বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বিভিন্ন মানের স্বর্ণের দাম এখন থেকে নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা (পূর্বে ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা)।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ gold হাজার ৬৩৫ টাকা (পূর্বে ছিল ২ লাখ ১৮Map হাজার ৯৩৩ টাকা)।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা (পূর্বে ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা)।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৪ টাকা (পূর্বে ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা)।
বিগত সপ্তাহের দামের তারতম্য
এর আগে, সর্বশেষ গত ৬ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছিল বাজুস। সেই সময় ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা করা হয়েছিল। তবে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে বাজারে পুনরায় বড় পতন ঘটায় ক্রেতা ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। যদিও রূপার বিদ্যমান দামে এই দফায় নতুন কোনো পরিবর্তনের কথা জানায়নি সংগঠনটি।
বাজার ওঠানামার সার্বিক পরিসংখ্যান
চলতি ২০২৬ বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে রেকর্ড ৭২ বার স্বর্ণের দামের এই তারতম্য বা সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৭ বার এবং কমানো হয়েছে ৩৫ বার। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের অস্থিরতার কারণেই দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তন। উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালেও দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দামের সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার দাম কমানোর রেকর্ড রয়েছে।