ঢাকা

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আসামি তালিকায় কারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সুনামগঞ্জে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ও এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর থানায় করা এ মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। মামলায় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী সোহাগ তালুকদার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মদ উল্লাহ ভূইয়া। শুক্রবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সোহাগ তালুকদার নামের একজন বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

যাঁদের নামে মামলা

মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে, সহসম্পাদক মেহেদী হাসান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. তৈয়বুর রহমান এবং সদস্য সাগর মিয়া।

এ ছাড়া মামলায় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত জামিল, তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি সালমান মিয়া এবং সহসাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন আখঞ্জিসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

মামলার এজাহারে তাঁদের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

যে ঘটনার পর মামলা

এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট সকালে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে ঘটনাটি ঘটে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে আসামিরা সেখানে জড়ো হন। পরে তাঁরা মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

মামলাটি করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা আইনে। নাশকতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো অভিযোগে এই আইনে মামলা করার বিধান রয়েছে।

মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সেখানে কী ধরনের কর্মকাণ্ড হয়েছিল এবং এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা কতটা ছিল—এসব বিষয় যাচাই করা হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা এই মামলা এমন সময়ে হলো, যখন দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

বিশ্বম্ভরপুরে করা মামলায় স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতার নাম থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে মামলায় নাম থাকা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

এদিকে মামলার অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ আসামির পরিচয়ও তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে কী অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

তদন্তের অপেক্ষায় অভিযোগ

মামলার এজাহারে ১৯ আগস্টের ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেখানে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন ও ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা তদন্তে যাচাই করা হবে।

বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি আহম্মদ উল্লাহ ভূইয়া জানিয়েছেন, মামলার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে তদন্ত শেষে পুলিশ কী তথ্য পায় এবং পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে নাশকতার অভিযোগে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে করা এই মামলা তাই এখন তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত চিত্র এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স