ঢাকা

শিক্ষা ক্যাডারের বদলি-পদায়ন স্থগিত, কার্যকর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সরকারি কলেজের শিক্ষক এবং বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

তবে বদলি ও পদায়ন স্থগিত করার কারণ সম্পর্কে অফিস আদেশে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন করে কবে থেকে এসব কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়েও আদেশে কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

বর্তমানে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা রয়েছেন। সরকারি কলেজের শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁদের একটি বড় অংশ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন নীতিমালা জারির পর স্থগিতাদেশ

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের দায়িত্ব এত দিন মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে ছিল। সম্প্রতি এ কার্যক্রমে পরিবর্তন এনে নতুন নীতিমালা জারি করে মন্ত্রণালয়। গত জুলাইয়ে জারি করা ওই নীতিমালায় বদলি ও পদায়নের কাজ বিকেন্দ্রীকরণ করে তিনটি কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে নীতিমালায় সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত কাঠামোয় বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বহাল রাখা হয়েছে। পদ ও কর্মকর্তার শ্রেণি অনুযায়ী পৃথক কমিটিকে বিভিন্ন ধরনের বদলি ও পদায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, কিছু বদলি-পদায়নের ক্ষমতা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক কার্যালয় ও মহাপরিচালকের নেতৃত্বাধীন কমিটির হাতে দেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছেই রয়েছে।

প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলিতে আঞ্চলিক কমিটি

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের একই মাউশি অঞ্চলের মধ্যে বদলির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালকের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে।

তবে কোনো প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক নিজ অঞ্চলের বাইরে অন্য অঞ্চলে বদলি হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মাউশি আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। পরিচালক আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে সুপারিশসহ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। তবে ওই পরিচালক নিজে আন্তঃআঞ্চলিক বদলির আদেশ দিতে পারবেন না।

অর্থাৎ একজন প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে বদলি হতে চাইলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কার্যত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছেই থাকছে।

অন্যদিকে, দপ্তর ও সংস্থার পদ বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোতে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে বদলি বা পদায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আঞ্চলিক পরিচালকের সভাপতিত্বে গঠিত চার সদস্যের কমিটিকে।

শূন্য পদে ইনসিটু কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদে পদায়ন

আঞ্চলিক কমিটির আরেকটি দায়িত্ব হলো পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে ইনসিটু অবস্থায় থাকা কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদে বদলি-পদায়নের আদেশ জারি করা।

ইনসিটু বলতে পদোন্নতি পাওয়ার পরও কোনো কর্মকর্তাকে আগের কর্মস্থল বা পদেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পদ শূন্য হলে নীতিমালা অনুযায়ী তাঁদের নিয়মিত পদে পদায়নের বিষয়টি এ কমিটি বিবেচনা করবে।

সহযোগী অধ্যাপকদের বদলিতে মাউশির মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কমিটি

সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপকদের বদলি ও পদায়নের জন্য মাউশির মহাপরিচালকের নেতৃত্বে আলাদা কমিটি রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর, দপ্তর ও সংস্থার পদ ছাড়া সহযোগী অধ্যাপকদের বদলি বা পদায়নের আবেদন এ কমিটি যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বদলি বা পদায়নের আদেশ জারি করবে।

অর্থাৎ কর্মকর্তার পদমর্যাদা ও কর্মস্থলের ধরন অনুযায়ী বদলি-পদায়নের দায়িত্ব বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। তবে ঢাকা মহানগর এবং বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার পদগুলোকে এ ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে।

অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে মন্ত্রণালয়ের কমিটি

সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার সব পদ এবং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের বদলি ও পদায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে।

ফলে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে পদভেদে তিন স্তরের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল—আঞ্চলিক পর্যায়ের কমিটি, মাউশির মহাপরিচালকের নেতৃত্বাধীন কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি।

তবে নতুন এই কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পরই বদলি ও পদায়ন স্থগিতের সিদ্ধান্ত এসেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের চলমান কার্যক্রমে এ স্থগিতাদেশের প্রভাব পড়বে।

কবে আবার শুরু হবে, জানানো হয়নি

মঙ্গলবারের অফিস আদেশে বদলি ও পদায়ন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা বলা হলেও স্থগিতাদেশের নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তের কারণও ব্যাখ্যা করা হয়নি।

ফলে শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম কবে শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার ওপরই এ কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ভর করবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স