ঢাকা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ নিয়ে দ্রুত নিয়োগের সুপারিশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালুরও সুপারিশ করেছে কমিটি।

বুধবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজেট বাস্তবায়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আবদুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী ও মাহফুজা হান্নান অংশ নেন।

কমিটি মনে করে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা জরুরি। এ কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যমান সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সুপারিশ করা হয়।

প্রাথমিক স্তরে নৈতিক শিক্ষা চালুর সুপারিশ

প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির আলোচনায় শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের চর্চা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্কুল ফিডিংয়ে পুষ্টি ও মান নিশ্চিত করার তাগিদ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান ফিডিং কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি সুপারিশ করেছে কমিটি।

কমিটি বলেছে, ফিডিং কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যালয়গামী শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণে সহায়তা করা। তাই এ কর্মসূচিতে খাবারের গুণগত মানের কোনো ধরনের ঘাটতি গ্রহণযোগ্য নয়। মান নিশ্চিত না হলে এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নে গুরুত্ব

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার বাজেট এবং ব্যয় পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা অর্থ যথাযথভাবে ও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।

বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরের খাতওয়ারি বরাদ্দ, ব্যয় পরিকল্পনা এবং বাজেট ও ব্যয় বিভাজন উপস্থাপন করা হয়।

এসব বিষয় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কমিটির সদস্যদের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থাপনার পর বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ ও ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়ে সদস্যরা আলোচনা করেন এবং বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় বাড়ানোর প্রস্তাব

দেশের সব শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আওতায় আনার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কমিটির সদস্যরা বলেন, কোনো শিশু যাতে বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা তুলনামূলক কম এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়, সেসব এলাকায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপন বা বিদ্যমান অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কমিটির সদস্যরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেন। এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেতে কমিটির সদস্যদের বিদ্যালয় খোলা থাকা অবস্থায় সরেজমিন পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পরামর্শ

শুধু দাপ্তরিক প্রতিবেদন বা পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর না করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ জন্য কমিটির সব সদস্যকে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় বিদ্যালয় পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ, অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ফিডিং কার্যক্রম এবং শিক্ষা পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বাজেটের যথাযথ ব্যবহার এবং বিভিন্ন চলমান কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স