মেধা, সৃজনশীলতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজনে অংশ নিল শিক্ষার্থীরা
ওয়াইডব্লিউসিএ উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্লাব কার্যক্রম-২০২৬ শেষ হয়েছে। ১৩ ও ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের বিকাশ, বিজ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তিজ্ঞান এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের নানা দিক তুলে ধরা হয়। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘মেধা, মনন-সৃজন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বুনি আগামীর স্বপ্ন’।
মঙ্গলবার শুরু হওয়া এ আয়োজনে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সৃজনশীল দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জন, দলগতভাবে কাজ করা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবারের কার্যক্রমে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএর সভাপতি বার্থা গীতি বাড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক সিলভিয়া শান্তশ্রী মজুমদার, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অনুভূতি সিনহা এবং বর্তমান অধ্যক্ষ ফ্লোরেন্স গমেজ। তাঁরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাবভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, সহযোগিতার মনোভাব এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ তৈরি হয়। তাঁরা শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে বক্তব্য দেন লেখক, সংগঠক ও প্রথম আলোর পরামর্শক মুনির হাসান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্লাব কার্যক্রম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ ও দক্ষতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায়।
এবারের আয়োজনে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), পরিবেশসহ মোট ১৩টি ক্লাব বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও কার্যক্রমের আয়োজন করে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, পরিবেশসচেতনতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজেদের কাজ ও আগ্রহের বিষয়গুলো অন্যদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রথমা প্রকাশনীর বইয়ের স্টল। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, গণিত ও পদার্থবিষয়ক বিভিন্ন বই রাখা হয়। শিক্ষার্থীরা স্টল থেকে নিজেদের পছন্দের বই কেনার সুযোগ পায়। এ উদ্যোগ পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞানচর্চা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উৎসাহ জুগিয়েছে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করার বিষয়টি এতে গুরুত্ব পায়।
বুধবার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিদ্যালয়ের দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্লাব কার্যক্রম-২০২৬। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, সৃজনশীল চর্চা এবং নিজেদের প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন।